(Sensex Crash) হু হু করে পড়ছে শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর মধ্যেই ১,০০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেল সেনসেক্স। একইসঙ্গে ২২,৩০০-এর নিচে নেমে গেল নিফটি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি, মার্কিন বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইল্ড, টাকার দরপতন এবং তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা—সব কিছু মিলিয়ে তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে ভারতীয় বাজারে।
Table of Contents
কয়েক ঘণ্টায় উধাও ₹৯ লক্ষ কোটি
বিএসই-র তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সময় ছিল প্রায় ₹৪৭১.৮৬ লক্ষ কোটি। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ₹৪৬২.৭২ লক্ষ কোটি। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টাতেই প্রায় ₹৯ লক্ষ কোটি বাজারমূল্য মুছে যায়। (Sensex Crash)
দুই দিনে ₹২০ হাজার কোটির বেশি বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার
(Sensex Crash) বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিক্রিই এই পতনের অন্যতম বড় কারণ। শুধু ৩০ সেপ্টেম্বরেই বিদেশিরা ₹১০,০০০ কোটির বেশি ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছেন। পরপর দু’টি সেশনে তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ ₹২০,০০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
আমেরিকান বন্ড, দুর্বল টাকা চাপ বাড়াচ্ছে
বাজারে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে আমেরিকান ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড, যা ৫.৩ শতাংশের উপরে উঠেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ উদীয়মান বাজারের শেয়ারের তুলনায় আমেরিকান ফিক্সড-ইনকাম সম্পদ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার ডলারের তুলনায় ₹৯৬-এর গণ্ডি পেরিয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। দুর্বল টাকা বিদেশিদের ডলার-ভিত্তিক রিটার্নে চাপ তৈরি করে।
ফের বাণিজ্যিক বাড়ল গ্যাসের দাম, পুজোর খাবার এবার আরও দামি
তেলের দাম ও ইরান সংঘাতও উদ্বেগের কারণ
(Sensex Crash) ইরানকে ঘিরে সংঘাতের জেরে সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তাও বাজারকে চাপে রেখেছে। ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। এর পাশাপাশি বিক্রির চাপ বাড়তেই India VIX, অর্থাৎ বাজারের অস্থিরতার সূচকও বেড়েছে।
রিটেল বিনিয়োগকারীদের কী অবস্থা?
০২১ ট্রেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ঈশান ল্যাজারাসের মতে, শুধু নিফটি-সেনসেক্স দিয়ে পুরো বাজারের ছবি বোঝা যায় না। গত পাঁচ বছরে SIP-এর টাকা লার্জ-ক্যাপের তুলনায় মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপে বেশি গিয়েছে। তাঁর দাবি, নিফটি মিডস্মল৪০০ এখনও সর্বোচ্চ স্তর থেকে মাত্র ৫-৬ শতাংশ নিচে।
(Sensex Crash) তিনি আরও জানান, ২০২০ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে NSE-র নথিভুক্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে শক্তিশালী বাজারে ২০-৩০ শতাংশ বার্ষিক রিটার্নের অভিজ্ঞতা পাওয়া নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে এক অঙ্কের রিটার্নও হতাশাজনক মনে হতে পারে।
ভারতের তুলনায় পিছিয়ে উদীয়মান বাজার
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষে MSCI Emerging Markets Index ডলারের হিসাবে ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে নিফটি ৫০ প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে রুপির হিসাবে। এদিকে ডলারের তুলনায় রুপির দর প্রায় ₹৯০ থেকে কমে ₹৯৬-এর উপরে গিয়েছে। (Sensex Crash)
তবে তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা উচিত। শুধু এক দিনের বাজার পতনের ভিত্তিতে বিনিয়োগ বা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
FD আছে? ১ অক্টোবর থেকে বদলে যাচ্ছে নিয়ম, এখনই জেনে নিন বিস্তারিত













2 thoughts on “বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার বেচতেই ধস, বাজার থেকে এক ধাক্কায় উধাও ₹৯ লক্ষ কোটি”
Comments are closed.