কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে আলোচনা এখন শুধু প্রযুক্তির মধ্যে আটকে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে চাকরি, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকির প্রশ্নও। এই পরিস্থিতিতে AI নিয়ন্ত্রণের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন Google-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস মানিয়েকা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা যায় না। (AI Regulation)
শিল্প, সরকার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব
Google-এর রিসার্চ, টেকনোলজি ও সোসাইটি বিভাগের দায়িত্বে থাকা মানিয়েকা ব্লাম্বার্জ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, AI-এর উপর নজরদারি শুধু প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়িত্ব হতে পারে না। শিল্প সংস্থা, সরকার এবং সমাজ সব পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। AI যত দ্রুত উন্নত হচ্ছে, সেই গতির সঙ্গে ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতাও বাড়াতে হবে। মানিয়েকার মতে, AI নিয়ে বিপদের আশঙ্কা নতুন কিছু নয়। সেই ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিয়েই প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। বিশেষ করে অস্তিত্বের উপর বড় ধরনের বিপদের সম্ভাবনা থাকলে তা কোনওভাবেই হালকা করে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “ক্ষমতা বাড়ানোর গতি যেন ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে না যায়।” (AI Regulation)
AI কি চাকরি কেড়ে নেবে?
AI এর কারণে ব্যাপক হারে চাকরি চলে যাবে এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন মানিয়েকা। তাঁর বক্তব্য, দুই বছর আগে ৫০ শতাংশ চাকরি হারিয়ে যাওয়ার মতো নানা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা দেখা যায়নি। তাঁর মতে, কিছু চাকরির চাহিদা কমবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে চাকরির ধরনে। অনেক কাজ পুরোপুরি হারিয়ে না গিয়ে AI-এর কারণে বদলে যাবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলিতে আশাবাদ
সেমাফর কে মানিয়েকা জানান, আমেরিকা ও ইউরোপের তুলনায় গ্লোবাল সাউথ এর দেশগুলিতে AI নিয়ে আশাবাদ কিছুটা বেশি। জাম্বিয়া ও ভারতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণে AI-এর ব্যবহার, ৩০০টি ভাষায় গুগল ট্রান্সলেট এর পরিষেবা এবং কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলা সংক্রমণের পূর্বাভাস দেওয়ার মতো উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই প্লেনটারি প্রেডিকশন ইঞ্জিন ৮৩ শতাংশ নির্ভুলতায় ইবোলা সংক্রমণের পূর্বাভাস দিয়েছিল। (AI Regulation)
মানিয়েকার কথায়, AI-এর প্রতিযোগিতায় কে আগে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরি করবে তা নিয়ে নয়। আসল লক্ষ্য, “সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়া।”












