ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের তদন্তে গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন বারুইপুর পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁদের দাবি, বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী তাঁদের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় তাঁদের এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গৌতম চক্রবর্তী। সোমবার বারুইপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই দাবি করেন ধৃতরা। (Baruipur Fake Doctor Case)
কী অভিযোগ ধৃতদের ?
গ্রেফতার হওয়া দুই কাউন্সিলর হলেন বারুইপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশিস দেবরায় এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিকাশ দত্ত। তাঁদের সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কর্মী জয়দেব সাহা। বিকাশ দত্তের অভিযোগ, বিজেপির বারুইপুর পশ্চিমের ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী তাঁদের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। (Baruipur Fake Doctor Case) আশিস দেবরায়-সহ অন্যদের কাছেও টাকা চাওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। টাকা না দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ধৃতদের। তাঁদের বক্তব্য, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
অভিযোগ অস্বীকার গৌতমের
তৃণমূল কাউন্সিলরদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কথায়, যাঁরা গ্রেফতার হন, তাঁরা অনেক সময় নিজেদের বাঁচাতে এমন অভিযোগ করেন। তিনি নিজে বারুইপুরে এই ঘটনা নিয়ে ছ’টি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান। গৌতমের দাবি, এই মামলায় আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারেন। জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র যাঁর স্বাক্ষরে ইস্যু হয়েছে, তদন্তে তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। তবে তদন্ত চলায় মামলার বিষয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। পাশাপাশি, তাঁর ও দলের সম্মানহানির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন। (Baruipur Fake Doctor Case)
তদন্তে পুলিশের নজর
উল্লেখ্য, বারুইপুরে তিন ভুয়ো চিকিৎসক তপন কুমার বৈরাগী, বাসুদেব নস্কর এবং আশিস কুমার বড়ালকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, বৈধ চিকিৎসার ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা চিকিৎসা করতেন। মৃত ব্যক্তিদের নামে ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে কয়েক জন কাউন্সিলরের সঙ্গে ওই চিকিৎসকদের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার পুলিশ সোমবার দুই কাউন্সিলর ও এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরিতে ধৃতদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে বারুইপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। (Baruipur Fake Doctor Case)












1 thought on “‘BJP নেতাকে টাকা না দেওয়াতেই মিথ্যা মামলা’, বিস্ফোরক বারুইপুরে ধৃত দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের”
Comments are closed.