ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা। চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে ৩-৫ গোলে হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। চলতি আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোল হজম করতে হল লাল-হলুদকে। চেন্নাইয়িনের হয়ে জোড়া গোল ব্রাইসন ও ইরশাদের। বাকি গোলটি পেনাল্টি থেকে করেন ব্রাজিলিয়ান রামন। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন একে লোেবা, পেনাল্টি থেকে রামিরেজ এবং পরিবর্ত হিসেবে নামা ডেভিড।
আইএসএলে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে হারের মুখ দেখল ইস্টবেঙ্গল। শেষবার গত মরসুমের ফেব্রুয়ারিতে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে হেরেছিল তারা। তবে শনিবার সন্ধ্যায় দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে মোট আট গোলের রোমাঞ্চ দেখা গেল। চলতি আইএসএলের অন্যতম সেরা ম্যাচ হয়ে থাকল এই লড়াই।
Chennaiyin FC vs East Bengal: আনোয়ারের অভাবেই কি ভাঙল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ?
আনোয়ারের অনুপস্থিতির প্রভাব এদিন স্পষ্ট হয়ে উঠল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে। জিভুলিচের সঙ্গে সন্দীপ মাণ্ডির বোঝাপড়ায় ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ডানদিকে লালচুননুঙ্গার অনুপস্থিতিতেও রক্ষণে বড়সড় ফাঁক তৈরি হয়। তারই সুযোগ নিয়ে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ফেলে চেন্নাইয়িন।
রক্ষণের দুর্বলতা ঢাকার মতো ছন্দে ছিলেন না জিকসনও। চোটের সমস্যা তাঁকে অস্বস্তিতে রেখেছে। অন্যদিকে, রশিদ যথেষ্ট পরিশ্রম করলেও খেলায় তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে রক্ষণের সামনে তাঁদের কাছ থেকে যে নির্ভরতা প্রত্যাশিত ছিল, তা দেখা যায়নি। চেন্নাইয়িনের ফুটবলাররা অনায়াসে পাস খেলে আক্রমণ সাজিয়েছেন।
ইরফান, ব্রাইসন ও রামনের মতো আক্রমণভাগের ফুটবলারদের বল জোগানোর দায়িত্বে ছিলেন মাদিহ তালাল ও নিকোলা। ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটের পর থেকেই ক্লিফোর্ড মিরান্ডার দল খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। একের পর এক দ্রুত আক্রমণে টলমল করতে থাকে লাল-হলুদ রক্ষণ।
ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই ইরশাদের পাস থেকে গোল করেন ব্রাইসন। সেই সময় ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডারদের অবস্থানও ঠিক ছিল না। ১৮ মিনিটে ফের গোল চেন্নাইয়িনের। এবার ইরশাদের পাস থেকে স্যাননের ব্যাক সেন্টার পেয়ে ফাঁকা জায়গা থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাইসন। ব্রাইসন-ইরশাদ জুটি যে বাকি আইএসএলেও প্রতিপক্ষের চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা এদিনের ম্যাচেই স্পষ্ট।
এদিকে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মাদিহ তালাল। তাঁর পরিবর্তে নেমে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন রিহাতা। নিকোলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলায় মাদিহ তালালের অভাব বুঝতে দেননি তিনি।
ব্যবধান কমিয়েও লাভ হল না, পাল্টা আক্রমণে চেন্নাইয়িন
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। সেই চেষ্টায় নেতৃত্ব দেন রামিরেজ। কিছুটা সাহায্য করেন রশিদও। তবে বিপিন সিং ও পিভি বিষ্ণু এদিন নজর কাড়তে ব্যর্থ হন। ফলে বিরতির আগে তাঁদের তুলে নিয়ে এডমুণ্ড ও রোহিত দানুকে মাঠে নামান কোচ হাবাস।
ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২৯ মিনিটে ব্যবধান কমান একে লোেবা। রামিরেজের পাস থেকে গোল করেন তিনি। তবে লাল-হলুদ যতবার ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে, ততবারই পাল্টা আঘাত হেনেছে চেন্নাইয়িন। ৪১ মিনিটে বক্সের মধ্যে জিকসনের ফাউলের শিকার হন ব্রাইসন। পেনাল্টি পায় চেন্নাইয়িন। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার রামন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের গোল পায় ইস্টবেঙ্গল। ৪৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রামিরেজ। কিন্তু তাতেও চেন্নাইয়িনের আক্রমণের ঝড় থামেনি। বরং আরও চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। ৫৯ ও ৬৭ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ম্যাচের অন্যতম সেরা ফুটবলার ইরশাদ। দুই গোলের পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় লাল-হলুদ।
শেষ মুহূর্তে ডেভিডের গোল, তবু কাটল না লজ্জা
শেষদিকে মরিয়া হয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালায় ইস্টবেঙ্গল। সেই চেষ্টারই ফল আসে একেবারে শেষ ভাগে। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা ডেভিড গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল একাধিকবার নিশ্চিত গোল বাঁচান। তা না হলে লাল-হলুদের হারের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। (Chennaiyin FC vs East Bengal)
দুই ম্যাচে নয় গোল করা ইস্টবেঙ্গল এদিন চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে একাই পাঁচ গোল হজম করল। ফিফা বিরতির পর আগামী ২০ নভেম্বর দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। তার আগে টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি রক্ষণের দুর্বলতা মেটানোই এখন হাবাসের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে জিভুলিচের পাশে এমন একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী খুঁজতে হবে, যিনি আনোয়ারের অভাব অনেকটাই পূরণ করতে পারবেন। নইলে মরসুমের শুরুতে যে ইস্টবেঙ্গলকে বেশ ছন্দে ও শক্তিশালী মনে হচ্ছিল, তাদেরই ক্রমশ নড়বড়ে দেখাতে পারে। আপাতত পাঁচ গোল হজমের লজ্জা নিয়েই চেন্নাই থেকে ফিরতে হচ্ছে লাল-হলুদকে। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় ইস্টবেঙ্গলের হারে দীপাবলির আনন্দও অনেকটাই ফিকে সমর্থকদের কাছে।














