Mohammed Shami Retirement: মাটিতে বল পড়ার পর বলের চকচকে সিম পজিশন নিখুঁতভাবে বাতাসে ভেসে সোজা গিয়ে উপড়ে দিচ্ছে অফ-স্টাম্প—ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে এই পরিচিত রোমাঞ্চের দৃশ্যটি আর কখনই দেখা যাবে না। লাল বলের ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান কান্ডারি মহম্মদ শামি। শুক্রবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন ভিডিয়ো পোস্ট করে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন ৩৬ বছর বয়সি এই তারকা পেসার। তবে টেস্টের সাদা পোশাক চিরতরে তুলে রাখলেও এখনই বুটজোড়া তুলে রাখছেন না তিনি; দেশের জার্সিতে একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত তিনি।
অভিষেক ম্যাচেই ৯ উইকেট
উত্তরপ্রদেশের সহসপুর থেকে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে কলকাতার ক্লাব ক্রিকেটের মেঠো পথ ধরে যাঁর উত্থান, সেই শামি ২০১৩ সালে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টেই ৯ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আগমন বার্তা দিয়েছিলেন। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ইশান্ত শর্মা, জসপ্রীত বুমরাহ ও উমেশ যাদবদের সাথে জুটি বেঁধে বিদেশের মাটিতে ভারতকে টেস্ট জেতানোর যে আগ্রাসী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন বিরাট কোহলি, তার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন শামি। ৬৪টি টেস্টের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে তিনি ঝুলিতে পুরেছেন ২২৯টি উইকেট। মেলবোর্ন, লর্ডস, সেঞ্চুরিয়ন কিংবা ওভাল—ভারতের প্রতিটি অবিস্মরণীয় বিদেশের টেস্ট জয়ে শামির সুইং ও নিখুঁত সিম প্রেজেন্টেশন হয়ে উঠেছিল প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। (Mohammed Shami Retirement)
তবে শামির এই সাফল্যের পথ কখনোই নিষ্কণ্টক ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনের প্রবল ঝড়ঝাপ্টা এবং বারংবার চোটের আঘাত তাঁর শরীরকে রক্তাক্ত করেছে। ২০২৩ সালে দেশের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে গোড়ালিতে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পর দীর্ঘ অস্ত্রোপচার ও রিহ্যাবের অন্ধকার গলিতে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলে ভারতকে ট্রফি এনে দেওয়ার লড়াইয়ে থাকলেও টেস্ট দলে তাঁর জায়গা ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জাতীয় নির্বাচকদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে লাল বল হাতে নেমে একাধিক ম্যাচে আগুন ঝরিয়েছিলেন তিনি। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের নকশায় লাল বলের দলে আর জায়গা হয়নি তাঁর। (Mohammed Shami Retirement)
বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ শামি
বিদায়বেলায় আবেগ চেপে রাখতে পারেননি বঙ্গ পেসার। ভিডিয়ো বার্তায় শামি বলেন, “সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি মুহূর্ত আজীবন আমার অন্তরে অমলিন থাকবে। টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে কেবল পাঁচ দিনের কোনও খেলা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিশেষ অধ্যায়। প্রতিটি চোট, সেখান থেকে কামব্যাকের প্রতিটি যুদ্ধ আমাকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে (CAB) আন্তরিক ধন্যবাদ। আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ, সতীর্থ, পরিবার এবং দেশের অগুনতি ক্রিকেটভক্তদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।” (Mohammed Shami Retirement)
লাল বলের ক্যানভাসে শামির আগ্রাসী দৌড় হয়তো শেষ হলো, তবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে ভারতকে অন্যতম সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে তাঁর অবদান অমর হয়ে থাকবে। এবার সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের বাকি দিনগুলোতে শামি দেশের জন্য আরও কত ট্রফি নিয়ে আসেন, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব। (Mohammed Shami Retirement)













