একসময় তাঁকে দেখা হয়েছিল সচিন তেন্ডুলকরের উত্তরসূরি হিসেবে। ব্যাট হাতে শৈশবের প্রতিশ্রুতি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে রাজত্ব—দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের যাত্রায় বারবার নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন (Virat Kohli) বিরাট কোহলি। কখনও আগ্রাসী ব্যাটিং, কখনও রান তাড়া, আবার কখনও কঠিন সময় পেরিয়ে প্রত্যাবর্তন। সচিনের ছায়া থেকে বেরিয়ে কি নিজেরই আলাদা মানদণ্ড তৈরি করেছেন ‘কিং কোহলি’? ৩৮তম জন্মদিনে তাঁর কেরিয়ারের ৩৮টি পরিসংখ্যানই সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।
Table of Contents
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই প্রতিভার ঝলক

১. ২০০৬-০৭ মরসুমে দিল্লির হয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঞ্জি ট্রফি অভিযানে ৯ ইনিংসে ৩৬.৭১ গড়ে ২৫৭ করেছিলেন বিরাট। সর্বোচ্চ ৯০।
২. ২০০৮-০৯ বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৭ ইনিংসে ৮৯ গড়ে ৫৩৪ রান, চারটি শতরান—সেই মরসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি।
৩. (Virat Kohli) প্রথম সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ৫ ইনিংসে ৩৫.৮০ গড়ে ১৭৯ রান করেন। সঙ্গে অর্ধশতরান করেন।
৪. ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অভিযানে ৬ ইনিংসে ২৩৫ রান, একটি শতরান নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
৫. যুব টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ভারতের হয়ে ৪০ ম্যাচের ৪৪ ইনিংসে ১,৯১০ রান, চারটি শতরান ও ১২টি অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে ১২ যুব টেস্টে ৯৩২ রান (৩ শতরান, ৬ অর্ধশতরান) এবং ২৮ যুব ওয়ানডেতে ৯৭৮ রান (১ শতরান, ৬ অর্ধশতরান)।
টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে নজির

১২৩ টেস্টে ৯,২৩০ রান, গড় ৪৬.৮৫, ৩০টি শতরান ও ৩১টি অর্ধশতরান—ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক কোহলি।
৬. (Virat Kohli) অধিনায়ক হিসেবে ৭টি দ্বিশতরান, যা টেস্ট অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
৭. ৬৮ টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ৫,৮৬৪ রান (গড় ৫৪.৮), ২০ শতরান ও ১৮ অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর।
৮. অধিনায়ক হিসেবে ৬৮ টেস্টে ৪০টি জয়, ১৭টি হার ও ১১টি ড্র—ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে সর্বাধিক জয়।
৯. ঘরের মাঠে অধিনায়ক হিসেবে ১১টি সিরিজের ১১টিতেই জয়।
১০. দেশের মাটিতে অধিনায়ক হিসেবে ৩০ টেস্টে ৭০.০২ গড়ে ২,৮৭১ রান, ১০ শতরান ও ৬ অর্ধশতরান।
১১. দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া (SENA) এই দেশগুলিতে ১২টি টেস্ট শতরান, ভারতীয়দের মধ্যে সচিনের (১৭) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
১২. ভারতীয় বা এশীয় ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭টি টেস্ট শতরান, যা কিনা সর্বাধিক।
১৩. টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ ম্যাচে ৫২ ইনিংসে ৬১.৭৮ গড়ে ৩,১৫১ রান, ১৫ শতরান ও ৫ অর্ধশতরান।
১৪. তৃতীয় ইনিংসে ৫৮ ম্যাচে ৫৭ ইনিংসে ৩৫.৯৮ গড়ে ১,৮৭১ রান, ৪ শতরান ও ১০ অর্ধশতরান।
ওয়ানডেতে রান তাড়ার রাজা

৩১৮ ওয়ানডেতে ৩০৬ ইনিংসে ১৫,১৮৩ রান, গড় ৫৮.৮৪, ৫৫ শতরান ও ৮০ অর্ধশতরান। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান সংগ্রাহক।
১৫. (Virat Kohli) রান তাড়া করতে নেমে ১৮০ ম্যাচের ১৬৯ ইনিংসে ৬৬.২১ গড়ে ৮,৭৪১ রান, ৩০ শতরান ও ৪৬ অর্ধশতরান—সর্বোচ্চ।
১৬. সফল রান তাড়ায় ১১৪ ম্যাচের ১০৪ ইনিংসে ৮৯.৯৫ গড়ে ৬,৪৭৭ রান, ২৫ শতরান ও ৩০ অর্ধশতরান।
১৭. দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৬.৩৮), ইংল্যান্ড (৫১.৪৮), নিউজিল্যান্ড (৫১.৫৩) ও অস্ট্রেলিয়ায় (৫০.০৩) পঞ্চাশের বেশি গড় রয়েছে একমাত্র তাঁরই।
১৮. ওপেনার নন, এমন ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক ৫টি ১৫০-প্লাস ইনিংস রয়েছে কোহলির। এই ইনিংসগুলিতে ৮২০ রান করেছেন, গড়ও ৮২০।
১৯. দেশের মাঠে ১৩৩ ম্যাচের ১৩০ ইনিংসে ৬২.৮১ গড়ে ৭,০৩৫ রান, ২৮ শতরান ও ৩৬ অর্ধশতরান—সর্বোচ্চ।
২০. ৫৫টি ওয়ানডে শতরানের মধ্যে ৪৫টি এসেছে জয়ের ম্যাচে; দ্বিতীয় স্থানে থাকা সচিনের এমন শতরান ৩৩টি।
২১. শ্রীলঙ্কা (৪৫.২৫) বাদে খেলা ১০টি দেশের মধ্যে ৯টিতেই গড় ৫০-এর বেশি।
২২. কেরলের তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে আউট না হয়ে সর্বাধিক ৩৩৮ রান করেছেন তিনি, তিন ইনিংসে দুটি শতরান।
টি-টোয়েন্টিতেও অনন্য কোহলি

৪৩০ ম্যাচের ৪১৩ ইনিংসে ৪২.৪৪ গড়ে ১৪,২১৮ রান, ১০ শতরান ও ১১০ অর্ধশতরান। এর মধ্যে ১২৫ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪,১৮৮ রান, একটি শতরান ও ৩৮ অর্ধশতরান।
২৩. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকা আটটি ম্যাচেই জিতেছে ভারত। এই ম্যাচগুলিতে কোহলির সংগ্রহ ৪৬৪ রান ও ৬ অর্ধশতরান।
২৪. সফল টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক রান তাড়ায় ৪২ ম্যাচের ৩৯ ইনিংসে ৭৮.৬১ গড় ও ১৩৫.৪৩ স্ট্রাইক রেটে ১,৫৬১ রান, ১৬ অর্ধশতরান।
২৫. ২০১৯ সালে মুম্বইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২১ বলে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি অর্ধশতরান।
২৬. আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ৪৭ বলে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতরান।
২৭. ২০২৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা চার আইপিএল মরসুমে ৬০০-র বেশি রান করা একমাত্র ব্যাটার।
২৮. ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে ২৯ বলে অপরাজিত ৭০ রান তাঁর দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ইনিংস; স্ট্রাইক রেট ২৪১.৩৮, চারটি চার ও সাতটি ছয়।
২৯. জসপ্রীত বুমরাহের পর আইপিএল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—দুই প্রতিযোগিতার ফাইনালেই ম্যাচের সেরা হওয়ার সম্মান রয়েছে (Virat Kohli) কোহলির।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ডের ভাণ্ডার

৫৬৬ ম্যাচের ৬৩৩ ইনিংসে ৫২.৮৬ গড়ে ২৮,৬০১ রান, ৮৬ শতরান ও ১৪৯ অর্ধশতরান। সর্বকালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
৩০. ২০১০-১৯ দশকে ৩৮৬ ম্যাচের ৪৩১ ইনিংসে ৫৭.৮৮ গড়ে ২০,৯৬০ রান, ৬৯ শতরান ও ৯৮ অর্ধশতরান—এক দশকে ২০ হাজার আন্তর্জাতিক রান করা একমাত্র ক্রিকেটার।
৩১. ১০টি ICC পুরস্কার জিতে ক্রিকেটারদের মধ্যে শীর্ষে।
৩২. ২০১৪ ও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনবার টুর্নামেন্টের সেরা—সর্বাধিক।
৩৩. ICC-র সাদা বলের প্রতিযোগিতায় ৯০ ম্যাচের ৮৭ ইনিংসে ৬১.৮৩ গড়ে ৩,৮৩৪ রান, ৬ শতরান ও ৩৩ অর্ধশতরান—সর্বাধিক রান ও পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস।
৩৪. ICC ইভেন্টের নকআউটে ২২ ম্যাচের ২৪ ইনিংসে ৫১.২ গড়ে ১,০২৪ রান, একটি শতরান ও ৯ অর্ধশতরান।
৩৫. (Virat Kohli) সর্বকালের সেরা ২০ রান সংগ্রাহকের মধ্যে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৫০-এর বেশি গড় থাকা একমাত্র ক্রিকেটার।
৩৬. ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ICC টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মেস এবং IPL—সব জেতা একমাত্র ক্রিকেটার।
৩৭. বাংলাদেশের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ২৮ ম্যাচের ২৭ ইনিংসে ৬৮.২৬ গড়ে ১,২৯৭ রান, চার শতরান ও আট অর্ধশতরান—এটাই তাঁর সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক ভেন্যু।
৩৮. অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১২টি আন্তর্জাতিক শতরান (টেস্টে ৭, ওয়ানডেতে ৫), কোনও সফরকারী ব্যাটারের নিরিখে সর্বাধিক।
সচিনের ছায়া পেরিয়ে নিজের পরিচয়
সচিনের ১০০ আন্তর্জাতিক শতরানের মাইলফলক এখনও অধরা। কিন্তু ৮৬ শতরান, ওয়ানডেতে ১৫ হাজারের গণ্ডি পেরনো এবং একাধিক বিশ্বরেকর্ডের মাধ্যমে (Virat Kohli) কোহলি ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে তাঁর নজর এখন ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ, সচিনের শতরানের রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছনো এবং IPL-এ আরও সাফল্যের দিকে। ৩৮ বছরে পা দিয়েও ব্যাট হাতে তাঁর ক্ষুধা যে কমেনি, পরিসংখ্যানই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।












