ক্রিকেট মাঠে (Virat Kohli) বিরাট কোহলিকে ঘিরে আবেগের শেষ নেই। তাঁর আগ্রাসন, ব্যাটিংয়ের দক্ষতা কিংবা ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বারবার। কিন্তু ২২ গজে যাঁরা বছরের পর বছর তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের চোখে বিরাট ঠিক কেমন? প্রতিপক্ষের সেই মূল্যায়নও তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটীয় যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
Table of Contents
জেমস অ্যান্ডারসন: ব্যর্থতা থেকে প্রত্যাবর্তনের গল্প

২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে (Virat Kohli) বিরাটের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিলেন ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। পাঁচ টেস্টের সিরিজে ১০ ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১৩৪ রান করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটার। চারবার তাঁকে আউট করেছিলেন ইংল্যান্ডের এই অভিজ্ঞ পেসার। কিন্তু চার বছর পর সেই ইংল্যান্ডেই ফিরল অন্য এক বিরাট। ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। পাঁচ টেস্টের সিরিজে ৫৯৩ রান করে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার নতুন পরিচয় দেন বিরাট। অ্যান্ডারসনও স্বীকার করেন, ২০১৪-র বিরাটের সঙ্গে ২০১৮-র বিরাটের অনেক পার্থক্য। তাঁদের লড়াইকে তিনি ‘fiercely competitive rivalry’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
মিচেল জনসন: বলের আঘাত থেকে ১৬৯ রানের জবাব

অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসনের সঙ্গে (Virat Kohli) বিরাটের লড়াইও ছিল বেশ উত্তপ্ত। ২০১৪-১৫ সালের মেলবোর্ন বক্সিং ডে টেস্টে বিরাট ও মিচেল জনসনের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত। রান আউটের চেষ্টা করতে গিয়ে জনসনের ছোড়া বল বিরাটের পিঠে লাগে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ভারতীয় ব্যাটার। মাঠেই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কিন্তু আসল জবাব আসে ব্যাট হাতে। সেই ইনিংসেই ১৬৯ রান করেন বিরাট। মাঠের সংঘাত, কথার লড়াই এবং বিরাটের দুরন্ত ব্যাটিং—সব মিলিয়ে সেই দ্বৈরথ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়। জনসন পরবর্তীকালে স্বীকার করেন, বিরাটকে শুরুতেই উত্তেজিত করে তাঁর মনোযোগ নষ্ট করাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা। তবে একবার সেট হয়ে গেলে তাঁকে থামানো কঠিন ছিল।
কেসরিক উইলিয়ামস: দু’বছর পর ফিরল নোটবুকের জবাব

২০১৭ সালে জামাইকায় একটি টি-২০ ম্যাচে বিরাটকে আউট করে নিজের বিখ্যাত নোটবুক সেলিব্রেশন করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেসরিক উইলিয়ামস। সেই দৃশ্য ভুলে যাননি বিরাট। দু বছর পর, ২০১৯ সালে হায়দরাবাদে আবার মুখোমুখি দুজন। এবার উইলিয়ামসের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যাটকে নোটবুক বানিয়ে তাঁরই সেলিব্রেশন নকল করেন (Virat Kohli) বিরাট। সেদিন ৫০ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস করে ভারতকে জেতান তিনি। উইলিয়ামস পরে জানিয়েছিলেন, ম্যাচ চলাকালীন বিরাট তাঁকে বারবার আগের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে পরের ম্যাচে তিরুবনন্তপুরমের দ্বিতীয় টি-২০-তে তিনি বিরাটকে আউট করেন এবং আঙুল ঠোঁটে দিয়ে ‘শান্ত থাকো’ ইঙ্গিত দেন।
কাগিসো রাবাডা: আচরণ নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা

২০১৯ সালের IPL-এ বিরাটের সঙ্গে মাঠে কথা কাটাকাটির পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাডা প্রকাশ্যেই তাঁর আচরণের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, (Virat Kohli) বিরাট নিজে প্রতিপক্ষকে কথা শোনালেও পাল্টা জবাব কিছুতেই সহ্য করতে পারেন না। বিরাটকে ‘immature’ বলে কটাক্ষও করেন। পরবর্তীকালে সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গে বিরাট বলেন, প্রয়োজন হলে দুজনে মুখোমুখি বসে আলোচনা করতে পারেন। তবে একই সঙ্গে রাবাডার বোলিং দক্ষতারও প্রশংসা করেন তিনি।
আমিরের চোখে কোহলি: প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে গভীর সম্মান

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে সেই উত্তেজনার মধ্যেই (Virat Kohli) বিরাট কোহলির সামনে কঠিন পরীক্ষা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মহম্মদ আমির। মিরপুরে মাত্র ৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমিরের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম তিন ওভারেই ৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন বিরাট। ম্যাচ শেষে আমিরের বোলিংয়ের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন তিনি। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে আমির কোহলিকে আউট করে পাকিস্তানের জয়ের পথ তৈরি করেন, বিরাটও স্বীকার করেছিলেন, তাঁর কেরিয়ারে মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন বোলারদের একজন আমির। ২০১৯ বিশ্বকাপেও তাঁর বলে কোহলি আউট হন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও আমির কোহলির মানসিকতা, ফিটনেস ও চাপে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বিরাট আধুনিক যুগের সবচেয়ে কঠিন ব্যাটারদের একজন। কোহলির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বড় ম্যাচে নিজের সেরা গেম আনার ক্ষমতা—যে কারণে প্রতিপক্ষের বোলার হিসেবে তাঁকে থামানো সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ডেল স্টেইন: প্রতিপক্ষের মুখে পেশাদারিত্বের প্রশংসা

(Virat Kohli) বিরাটের সঙ্গে স্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্লেজিংয়ের দ্বৈরথ ছিল না। তবে ২০২৫ সালে বিরাটের ফিটনেস, প্রস্তুতি এবং পেশাদার মানসিকতার প্রশংসা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন পেসার। তাঁর মতে, বয়স বাড়লেও বিরাটের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ও মানসিক প্রস্তুতি তাঁকে আলাদা করে রাখে।
একজন ক্রিকেটারের পরিচয় শুধু তাঁর রেকর্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনও কখনও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া সম্মানই তাঁর কৃতিত্বের অন্য মাপকাঠি হয়ে ওঠে। ৩৮-এ বিরাট কোহলির কেরিয়ার শুধু শতরান, ট্রফি কিংবা রেকর্ডের গল্প নয়। কখনও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাত, কখনও ব্যর্থতার পর প্রত্যাবর্তন, আবার কখনও মাঠের বাইরের পারস্পরিক সম্মান—এই সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয়েছে (Virat Kohli) কিং কোহলির বর্ণময় ক্রিকেটীয় পরিচয়।












