আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আর তারপরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই কি এই হারের পিছনে অন্যতম কারণ? কার্যত সেই সম্ভাবনাকেই সিলমোহর দিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পিছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব অনেকটাই রয়েছে। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনও অনুতাপ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব-মানলেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখিতে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণেই কি রিপাবলিকানদের নির্বাচনে হারতে হয়েছে? এর উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি অনেকাংশেই সত্য। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের জেরে স্বল্প সময়ের জন্য আমেরিকায় পেট্রলের দাম কিছুটা বেড়েছে। আর তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর। (Trump’s Election Defeat Reason)
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, আবার সুযোগ পেলেও তিনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন। কারণ, তাঁর মতে, ইরানের হাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল বলে সাফাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে নানা যুক্তি দেখালেও আমেরিকাবাসী যে সেই যুক্তিতে মোটেই বিশ্বাসী নয়-তা ভোটের ফল বলে দিচ্ছে।
ইরানের দাবি, ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে হারিয়েছে
একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন নিজের হারের সাফাই গাইতে ব্যস্ত, তখন আমেরিকার নির্বাচনী ফলকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। তেহরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই দাবি করেছেন, যুদ্ধের ময়দান এবং হরমুজ প্রণালীতে কৌশলগতভাবে হারার পাশাপাশি ওয়াশিংটনেও রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বইতে হচ্ছে আমেরিকার সাধারণ নাগরিককে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের বক্তব্য, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদলে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না। আমেরিকা ফের আগ্রাসন চালালে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ভ্যান্সের মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা
রিপাবলিকানদের হারের জন্য ইরান যুদ্ধকেই দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সমাজ মাধ্যমে তিনি লেখেন, যুদ্ধই তাঁদের পরাজয়ের কারণ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করা বহু ভোটারই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার জেরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে মুখ ফিরিয়েছেন। তাই এই হার যে সেই অসন্তোষেরই ফসল-তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে মূল্যবৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের আর্থিক চাপ—এই তিনটি বিষয়ই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই কারণ মেনেও নিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ভ্যান্সের মন্তব্যের পর থেকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।













