৪২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করেছিলেন। হাতে তুলে নিয়েছিলেন ম্যারাথনের পদকও। কিন্তু ফিনিশিং লাইনে পৌঁছনোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। আচমকাই মৃত্যু হলো ৩৬ বছর বয়সি যুবকের। গত ১ নভেম্বর হায়দরাবাদের গাচ্চিবৌলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হায়দরাবাদ হাই-টেক ফুল ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন কম্মিনেনি গোপী। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আইবিএম (IBM)-এ কর্মরত ছিলেন। হায়দরাবাদের মানিকোন্ডা এলাকায় থাকতেন। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪২.২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে পদক নেওয়ার পর ব্রেকফাস্ট করতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উদ্যোক্তারা দ্রুত তাঁর কাছে পৌঁছে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তাঁকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অথবা আচমকা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। (Marathon Sudden Cardiac Arrest)
এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘক্ষণ দৌড়নোর মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে আচমকা মৃত্যু হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ফিটনেস থাকলেই যে হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ, এমনটা নয়।
নীরবে বাড়তে পারে হৃদযন্ত্রের অসুখ
ম্যাক্স হেলথকেয়ারের কার্ডিয়াক সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান চিকিৎসক বলবীর সিংয়ের মতে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি ক্রীড়াবিদ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা ব্যক্তিদের আচমকা মৃত্যুর অন্যতম কারণ করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD)। এই রোগে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল জমে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলজির তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি ক্রীড়াবিদদের আকস্মিক হৃদমৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারি ডিজিজ দায়ী। অনেক সময় বছরের পর বছর এই রোগের কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার বা দৌড়নোর অভ্যাস থাকলেও এই সমস্যা থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার মতো পরিচিত উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই বড় বিপদ ঘটে। (Marathon Sudden Cardiac Arrest)
কীভাবে আচমকা বন্ধ হতে পারে হৃদযন্ত্র?
চিকিৎসকদের মতে, ধমনিতে জমে থাকা কোলেস্টেরলের স্তর বা প্লাক ফেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। তীব্র শরীরচর্চার সময় হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। একইসঙ্গে হৃদযন্ত্রের অক্সিজেনের চাহিদাও বাড়ে। এই অবস্থায় ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কখনও আবার হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতের ছন্দ বিঘ্নিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন বলা হয়। তখন হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষ জ্ঞান হারাতে পারেন। এই অবস্থাকে বলা হয় সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। দ্রুত সিপিআর এবং ডিফিব্রিলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
দৌড় শেষের পরেও কেন থাকে বিপদ?
তীব্র শরীরচর্চার সময় শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং হৃদযন্ত্রের কাজের চাপ বাড়ে। আগে থেকে হৃদযন্ত্রের (Marathon Sudden Cardiac Arrest)













