লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের স্কুলের কার্যকলাপ বন্ধ রাখার প্রশাসনিক নির্দেশ ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার সরাসরি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ইতিমধ্যেই তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইন্সটিটিউট অফ অল্টারনেটিভ লার্নিং (HIAL)-এর অধীনে ফিয়াং এলাকার Desert Flower School-এ আপাতত কোনও কাজকর্ম না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে লাদাখ প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনম ওয়াংচুক কটাক্ষ করে লেখেন, ‘স্কুল বন্ধ করো, মদের বার খোলো’। আর তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
Sonam Wangchuk X Post: হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধের নির্দেশ
মঙ্গলবার লেহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে HIAL-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO গীতাঞ্জলি জে আংমোকে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফিয়াংয়ের Desert Flower School-এ নতুন করে কোনও কার্যকলাপ চালানো যাবে না।
প্রশাসনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি, ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই ওই স্কুলে ক্লাস ও অন্যান্য কাজকর্ম শুরু করা হচ্ছিল। নোটিসে আরও বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাবিত সদস্যদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র চেয়ে লেহের ডেপুটি কমিশনারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন গীতাঞ্জলি জে আংমো।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে প্রশাসনকে পাল্টা আক্রমণ
এই নোটিসের পরেই এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। প্রশাসনের নির্দেশকে ‘শাহী ফরমান’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি যে সংবাদমাধ্যমগুলি লেফটেন্যান্ট গভর্নরের প্রশাসনের সাংবাদিক বৈঠকের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে, তাদের কাছে নিজেদের বক্তব্যও তুলে ধরার আবেদন জানান। ভারতের গ্লোবাল প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনেও সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর পোস্টে HIAL-এর কাজের স্বীকৃতির কথাও তুলে ধরেছেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, ভারতের সংসদীয় শিক্ষা কমিটি সারা দেশে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেছে। লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে HIAL-এর কাজ নিয়ে স্থায়ী প্রদর্শনীও রয়েছে। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনের TIME 100 Climate Solutions তালিকাতেও তাদের প্রকল্প জায়গা পেয়েছে। (Sonam Wangchuk X Post)
এত স্বীকৃতির পরেও কেন স্কুলের কাজ বন্ধ করতে বলা হচ্ছে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। ফলে ওয়াংচুকের এই প্রতিবাদের পর স্কুলের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও ওয়াংচুকের সংঘাত আরও জোরালো হলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।













