বিহারে ক্রাইম রয়েছে, কিন্তু অপরাধ নেই! এমনই মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব থেকে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, দু’জনেই সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ক্রাইম এবং অপরাধের মধ্যে এমন পার্থক্য কীভাবে করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী? (Samrat Choudhary Remark)
কী বলেছিলেন সম্রাট চৌধুরী?
সম্প্রতি দিল্লিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সেখানেই বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে কোনও ক্রাইম নেই। ক্রাইমের ধারণাটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। ক্রাইম হতে পারে, কিন্তু অপরাধ নেই। কোনও অপরাধীও নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের অর্থ বুঝতে পারছেন না বলেই দাবি বিরোধীদের। তাঁর মন্তব্যের পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। (Samrat Choudhary Remark)
তেজস্বী ও পবন খেরার কটাক্ষ
সম্রাট চৌধুরীর বক্তব্যের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমলাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, এমন নেতাদের সঙ্গে কাজ করে তাঁরা সম্মানিত বোধ করছেন, নাকি অপমানিত? পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করেন তেজস্বী। তাঁর প্রশ্ন, বিহারকে ধ্বংস করার জন্য কি সম্রাট চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী? অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কিছুটা অন্যভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কটাক্ষ করেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “দারিদ্র থাকতে পারে, কিন্তু গরিবি নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ধরন অনুসরণ করেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
অপরাধের মামলা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন
তেজস্বী যাদব তাঁর পোস্টে সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা অপরাধের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাতটি খুনের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলা রয়েছে। যদিও সম্রাট চৌধুরী বরাবরই দাবি করে এসেছেন, নব্বইয়ের দশকে তাঁর নিজের জেলা মুঙ্গেরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে মিথ্যা ভাবে জড়ানো হয়েছিল। (Samrat Choudhary Remark)
রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন আরজেডির হাত ধরেই। এদিকে, আরজেডি মুখপাত্র এজাজ আহমেদ বলেন, ‘অপরাধ’ শব্দের অর্থই হল ‘ক্রাইম’। এই সাধারণ অর্থ না বুঝলে বক্তব্য দেওয়ার আগে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর মতে, বিহারের ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের প্রাথমিক জ্ঞানের অভাবই এই মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।











