ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা। খোদ দেশের অন্দরেই গৃহযুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। অথচ সেই সব বাস্তবকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আকাশকুসুম স্বপ্ন ফেরি করতে নামলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক অনুষ্ঠানে তাঁর গলায় শোনা গেল সেই পুরনো ক্যাসেট— কাশ্মীর (Kashmir) নাকি শীঘ্রই পাকিস্তানের অংশ হবে! শাহবাজের এই ‘দিবাস্বপ্ন’ দেখে হাসছে ওয়াকিবহাল মহল। অনেকের মতেই, নিজের ঘরের আগুন নেভানোর লক্ষণ নেই, অথচ পাশের বাড়ির বাগান দখল করতে চাওয়ার এই চেষ্টা আসলে নেহাতই ছেলেমানুষি। (Kashmir)
শাহবাজ দাবি করেন, জিন্নাহর আদর্শ মেনে কাশ্মীরকে নাকি তাঁরা ‘জীবনরেখা’ মনে করেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই দাবির যে আর কানাকড়িরও দাম নেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন খোদ প্রবাসী পাকিস্তানিরাই। ৫ ফেব্রুয়ারি ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালন করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়েছে ইসলামাবাদের। লন্ডনের মোড় থেকে জেনেভার রাস্তা— সব জায়গাতেই প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাক নাগরিকেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি একটাই, “আগে নিজেদের দেশের সন্ত্রাসবাদ আর দারিদ্র সামলান, কাশ্মীর নিয়ে পরে ভাববেন।”আসলে পাকিস্তান প্রশাসনের হাল এখন নড়বড়ে। ১৯৯১ সালে প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফ যে ‘সংহতি দিবস’ শুরু করেছিলেন, তিন দশক পেরিয়েও পাক রাজনীতিকরা সেই একই ভারত-বিরোধী ঘুঁটি চেলে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই— দেশের মানুষের ক্ষোভের মুখটা সীমান্তপারের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। (Kashmir)
বিশ্লেষকদের কটাক্ষ, ভারত যখন চন্দ্রযান পাঠিয়ে চাঁদে ঘর বাঁধছে, পাকিস্তান তখন ‘কাশ্মীর পাবো’ বলে সেই পুরনো ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লক্ষ টাকার স্বপ্ন দেখছে। (Kashmir)
বলাই বাহুল্য, ভারতের আপত্তিতে কান না দিয়েও লাভ হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের এই দীর্ঘদিনের ‘ছিঁচকাঁদুনে’ স্বভাব এখন বিড়ম্বনার চরম সীমায় পৌঁছেছে। শাহবাজ যাই বলুন না কেন, কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ— তা মানচিত্র থেকে শুরু করে ইতিহাস, সবটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে অনেক আগেই। (Kashmir)











