সব সমস্যার উর্ধে এখন পাকিস্তানে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির সমস্যা! বিদ্যুৎ নয়, সীমান্ত নয়, রাজনীতি নয়। ম্যানহোলের ঢাকনা উধাও ঘুম কেড়েছে পাকিস্তানের। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে দিনের পর দিন ম্যানহোল ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়ায় অবশেষে ধৈর্য হারাল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম শরিফ ঘোষণা করেন, এবার থেকে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করলে ১ থেকে ১০ বছর জেল এবং পাকিস্তানি মুদ্রায় ৫০ লক্ষ রুপি জরিমানা করা হবে (Gutter law in Pakistan).
একপ্রকার অনুরোধের সুরে মরিয়ম শরিফ জানান, সকালে ঢাকনা বসাই, আর রাতে দেখি নর্দমা খোলা! দয়া করে ঢাকনা চুরি করবেন না।এই লোহার তৈরী ঢাকনাগুলোর ওজন প্রায় ৩০ কেজি। স্ক্র্যাপের দোকানে দিলে ভালো দাম পাওয়া যায়। ফলে কেউ কেউ ঢাকনাগুলি দেখছেন চটপট ইনকাম স্কিম হিসেবে। যেই দেশে কর্মসংস্থানের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী, সেই এই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক।

তবে এই ঢাকনা চুরির ঘটনার পরিনাম হয়েছে ভয়াবহ। লাহোর, সর্গোধা, ফয়সালাবাদ- বিভিন্ন শহরে মানুষ ও শিশুরা খোলা নর্দমায় পড়ে আহত বা নিহত হয়েছে। লাহোরে এক মা ও তাঁর শিশুর মৃত্যু হয়েছে এইভাবেই। সরকার বলছে, চুরি মানে শুধু ঢাকনা হারানো নয়, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা। যার কারণেই জারি করা হয়েছে নতুন আইন ( Gutter law in Pakistan)।
আইনে বলা হয়েছে, ঢাকনা চুরি করলে বা বিক্রি করলে জেল। ঢাকনা কিনলেও জেল। চুরির কারণে কেউ মারা গেলে, ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৫০ লক্ষ রুপি জরিমানা। এই আইন ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে ব্যঙ্গের ঝড়। একজন পাকিস্তানি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে এখন নর্দমারও দেহরক্ষী দরকার!’
পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য আর স্ক্র্যাপ ব্যবসার চাহিদা মিলিয়ে ঢাকনা চুরি যেন হয়ে উঠেছে রোজকার ঘটনা। কর্মীরা দিনে ঢাকনা বসান, আর চোরেরা রাতে তুলে নিয়ে যায়। ফলে এখন শহরবাসীকে হাঁটতে হচ্ছে মাথা নিচু করে।
সরকারের পরিষ্কার বক্তব্য, নর্দমার ঢাকনা খোলা মানে বিপদকে ডেকে আনা। ঢাকনা চুরি মানে সরাসরি মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলা, তাই পাকিস্তানে এখন নতুন সতর্কতা, রাস্তা পার হওয়ার সময় ডানে-বাঁয়ে তাকানোর পাশাপাশি নিচের দিকেও তাকান।











