ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত অস্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত সামনে এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড প্রতিনিধি দফতর (USTR) সম্প্রতি একটি পোস্টে ভারতের এমন একটি মানচিত্র (India Map) প্রকাশ করেছে, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আকসাই চিনসহ সম্পূর্ণ ভূখণ্ডকে ভারতের অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। এই মানচিত্র ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
মার্কিন ট্রেড প্রতিনিধি দফতরের তরফে এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত ওই পোস্টে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বাণিজ্যিক সুবিধা ও পারস্পরিক বাজার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করা হলেও, পোস্টের সঙ্গে থাকা ভারতের মানচিত্রটি আলাদা করে নজর কেড়েছে। কারণ, মানচিত্রটিতে কোনও বিতর্কিত সীমারেখা বা আলাদা চিহ্ন ছাড়াই ভারতের পূর্ণ ভৌগোলিক সীমা তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে বহু ক্ষেত্রেই মানচিত্রে ওই অঞ্চলগুলোকে বিতর্কিত হিসেবে দেখানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ট্রেড প্রতিনিধি দপ্তরের প্রকাশিত এই মানচিত্রকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার সঙ্গে এমন একটি মানচিত্র (India Map) প্রকাশ কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি পাকিস্তান ও চিনের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা। কারণ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের একটা অংশ দখল করে রেখেছে। যেটাকে ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলে। অন্যদিকে চিন আকসাই চিন অঞ্চলে নিজেদের বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার এই মানচিত্র প্রকাশ দুই দেশকে বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর মাধ্যমে সেই চাপ কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেড প্রতিনিধি দপ্তরের শেয়ার করা ভারতের পূর্ণ মানচিত্র আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। INDIA MAP-US












