
পুলিশ হয়েও চোরের দলে নাম লেখালেন উত্তরপ্রদেশের জনপুরের দুই কনস্টেবল। পুলিশের উর্দি পরে ফোনের শোরুম থেকে হাত সাফাই করেন ১.৬২ লক্ষ টাকার iPhone15 Pro Max। তবে ধরা পরে গেলেন সিসিটিভি ফুটেজের কারণে। যদিও ধরা পরার পর চাকরি খুইয়েছেন দু’জনেই।
জানা গিয়েছে, শনিবার অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ জেসি মোড় সংলগ্ন ওই শোরুমে ইউনিফর্ম পরা দুই পুলিশকর্মী ঢোকেন ক্রেতা সেজে। শোরুম থাকা মহিলাটিকে তাঁরা অনুরোধ করেন বিভিন্ন আইফোন মডেল দেখাতে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে ফোন দেখা, দাম জিজ্ঞেস করা ও গল্পগুজবের মধ্যেই কাটে সময়।
শেষ পর্যন্ত তারা জানিয়ে দেন, কোনও ফোনই নাকি তাদের পছন্দ হয়নি। ফোন না কিনে নির্বিঘ্নেই দোকান ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শোরুম মালিক শিবম লক্ষ্য করেন, ডিসপ্লে কাউন্টার থেকে উধাও একটি iPhone 15 Pro Max।
সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। আর তাতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, এক কনস্টেবল সুযোগ বুঝে ফোনটি তুলে নিজের পকেটে ভরে নেন। পরিবর্তে নিজের পুরনো আইফোন ১৩ প্রো সেখানে রেখে দেন।
অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে শিবম ওই ভিডিয়ো ক্লিপটি প্রায় ২০০ জনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশরূপী চোরদের পরিচয় সামনে আসে। তারা দু’জনেই জেলায় কর্মরত সক্রিয় পুলিশ কনস্টেবল।
এরপর শিবম সিসিটিভি ফুটেজসহ সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) আয়ুষ শ্রীবাস্তবের কাছে হাজির হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এক দিনের মধ্যেই চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করে শোরুম মালিককে ফেরত দেওয়া হয়।
সিটি এসপি আয়ুষ শ্রীবাস্তব জানান, অভিযুক্ত কনস্টেবল ধনঞ্জয় বিন্দ ও মিঠিলেশ যাদবকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিবম আরও জানান, সাসপেন্ড হওয়া কনস্টেবলদের একজন আগেও ওই এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং প্রায় এক বছর আগে পর্যন্ত শোরুমের উপরতলার একটি ডিজিটাল লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন।












