সংসদ ভবন থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে দিল্লির জিবি রোডে ৯০টিরও বেশি যৌনপল্লি চলছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার নারীকে বারবার শোষণের শিকার হতে হয়—রাজ্যসভায় এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল। সোমবার তিনি রাজ্যসভায় ৬ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতার একটি অংশ ফের প্রকাশ করেন।
মালিওয়াল জানান, দিল্লি মহিলা কমিশনে টানা ৯ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, ওই এলাকায় বহু নাবালিকাকেও উদ্ধার করতে হয়েছে। বক্তৃতায় তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, একবার ১৫ বছরের একটি মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, মেয়েটিকে বেসমেন্টে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে উদ্ধার করতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। মালিওয়ালের কথায়, মেয়েটিকে দেখতে ৩২ বছরের মতো লাগলেও ‘বোন এজ টেস্ট’-এ দেখা যায় তার বয়স ১৪।
ওই মেয়েটি জানিয়েছিল, তাকে ৯ বছর বয়সে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। শরীর দ্রুত পরিণত দেখানোর জন্য প্রতিদিন অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেওয়া হতো বলেও দাবি মালিওয়ালের। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে শেল্টার হোমে রাখা হলেও মেয়েটি সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
এনসিআরবি-র তথ্য তুলে ধরে মালিওয়াল বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন ৯০টিরও বেশি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়। ২০২৩ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে ১.৭৭ লক্ষের বেশি অপরাধের ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি তিন লক্ষের বেশি পকসো মামলা এখনও বিচারাধীন। সাজা হওয়ার হার মাত্র ১৪.৩ শতাংশ’। মালিওয়ালের বক্তব্য, “শাস্তি দ্রুত এবং নিশ্চিত না হলে অপরাধ কমবে না।”
তিনি প্রতিটি জেলায় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, উন্নত ফরেনসিক ব্যবস্থা, স্পা নিয়ন্ত্রণ, শিশু কল্যাণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং দায়িত্বে অবহেলা করা আধিকারিকদের জবাবদিহির দাবি তোলেন। মালিওয়ালের মন্তব্য, “নারীদের নিরাপত্তা বিলাসিতা নয়, মৌলিক প্রয়োজন।”











