রাশিয়ায় এখন ‘নতুন সোনা’ হয়ে উঠেছে শসা (Russian Cucumber)। নিত্যদিনের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ এই সবজির দাম হু হু করে বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তুলনায় এখন শসার দাম প্রায় দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন-চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে কেজি প্রতি শসা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ রুবেলে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ টাকার বেশি। অনেক ক্ষেত্রে মাংস বা আমদানি করা ফলের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই সবজি।
রাশিয়ানদের খাদ্যাভ্যাসে স্যালাড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই শসার দাম বাড়া সরাসরি প্রভাব ফেলছে দৈনন্দিন জীবনে। সাইবেরিয়া-সহ কিছু অঞ্চলে সুপারমার্কেটে শসা কেনার উপর নিয়ন্ত্রণও আরোপ করা হয়েছে। এমনকি কিছু সংবাদপত্র পাঠকদের বিনামূল্যে শসার বীজ দিচ্ছে, যাতে মানুষ নিজেরাই সবজি চাষ করে খরচ কমাতে পারেন।
দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। সামরিক খাতে বিপুল ব্যয়, ভর্তুকি কমে যাওয়া, ভ্যাট বৃদ্ধি এবং প্রবল শীত—সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। শীতকালে শসা চাষ করতে গ্রিনহাউসের উপর নির্ভর করতে হয়, ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য পরিষেবার খরচ বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, চলতি বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অ্যান্টি-মোনোপলি কর্তৃপক্ষ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাম কমানোর অনুরোধ করেছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারের সমালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। তবে কৃষকদের আশা, আগামী মাসে উৎপাদন বাড়লে শসার দাম কিছুটা কমতে পারে।












