নমো ভারত রেল করিডরের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশের মিরাট মেট্রোর উদ্বোধন করলেন তিনি। সঙ্গে জাতির উদ্দেশে দিল্লি–গাজিয়াবাদ–মিরাট নমো ভারত দ্রুত রেল করিডর উৎসর্গ করলেন। এতদিন ধাপে ধাপে চালু হওয়া এই প্রকল্পের বাকি অংশও আজ থেকে চালু হয়ে গেল। ফলে এখন দিল্লি থেকে মিরাট পর্যন্ত পুরো ৮২.১৫ কিলোমিটার পথ একটানা যাতায়াত করা যাবে।
- আজ নতুন করে কী চালু হল? এই করিডরের শেষ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আজ পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে। দিল্লির সরাই কালে খান থেকে নিউ অশোকনগর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং মিরাট দক্ষিণ থেকে মোদিপুরম পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার অংশ চালু হয়েছে। এতদিন এই অংশগুলিই বাকি ছিল। সেগুলো চালু হওয়ায় এখন পুরো দিল্লি–মিরাট রুট সম্পূর্ণ কার্যকর।এটি দেশের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুত গণপরিবহণ ব্যবস্থা, যা রাজধানী এবং আশপাশের শহরগুলিকে দ্রুত সংযুক্ত করবে।
- মিরাট মেট্রো এত দ্রুত কেন বলা হচ্ছে? মিরাট মেট্রোর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার এবং পরিষেবার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। এই গতির কারণে একে দেশের দ্রুততম মেট্রো পরিষেবা বলা হচ্ছে। শহরের ভেতরে ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট।অর্থাৎ শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে আগের তুলনায় অনেক কম সময় লাগবে।India’s Fastest Metro
- পুরো রুটটা কেমন? মোট ২৩ কিলোমিটার মেট্রো রুটের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার উড়ালপথে তৈরি হয়েছে এবং ৭ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে গিয়েছে। শহরের ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে এই লাইন তৈরি করা হয়েছে।মোট ১৩টি স্টেশন রয়েছে এই করিডরে। এর মধ্যে ৯টি উড়ালপথে, ৩টি ভূগর্ভস্থ এবং একটি ভূমিস্তরের ডিপো স্টেশন। মিরাট দক্ষিণ, শতাব্দী নগর, বেগমপুল এবং মোদিপুরম—এই চারটি স্টেশন থেকে যাত্রীরা নমো ভারত এবং মিরাট মেট্রো—দুই পরিষেবাতেই উঠতে পারবেন। একই প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিষেবা বদল করা যাবে, ফলে বাড়তি ঝামেলা নেই।
- ট্রেন কতক্ষণ অন্তর মিলবে? ভিড়ের সময় অর্থাৎ পিক আওয়ারে ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। অন্য সময়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যাবে।সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিষেবা থাকবে। রবিবার পরিষেবা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। একই টিকিটে নমো ভারত ও মেট্রো—দুই পরিষেবাতেই যাতায়াত করা যাবে। তবে ভাড়ার বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি।
- ট্রেনে কী কী সুবিধা থাকছে? মিরাট মেট্রোর প্রতিটি ট্রেন তিন কোচের। সব কোচ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। একসঙ্গে ৭০০-র বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রায় ১৭৩টি বসার আসন রয়েছে।রয়েছে আরামদায়ক কুশন আসন, মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য USB পয়েন্ট, লাগেজ রাখার জায়গা এবং CCTV। নিরাপত্তার জন্য জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিটি কোচে মহিলা ও প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে। হুইলচেয়ার ও স্ট্রেচার নিয়ে ওঠানামার সুবিধা রাখা হয়েছে। সব স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা বসানো হয়েছে, যা ট্রেনের দরজার সঙ্গে সমন্বিতভাবে খুলবে-বন্ধ হবে। এতে নিরাপত্তা বাড়বে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে।India’s Fastest Metro
- যাত্রার সময় কতটা কমবে? সম্পূর্ণ করিডর চালু হওয়ার পর দিল্লি থেকে মিরাট পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ৫৫ মিনিট। সড়কপথে যে সময় লাগত, তার তুলনায় এটি অনেক দ্রুত। এতে সড়ক যানজট কমবে, দূষণ কমবে এবং প্রতিদিনের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
- কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রকল্প শুধু একটি নতুন মেট্রো লাইন নয়, বরং একটি সমন্বিত পরিবহণ ব্যবস্থা। রাজধানী এবং আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলিকে দ্রুত সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এটি তৈরি হয়েছে।
দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই দ্রুত যোগাযোগ বড় ভূমিকা নেবে। সময় সাশ্রয় হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং উত্তর ভারতের নগর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, মিরাট মেট্রো এবং নমো ভারত করিডরের পূর্ণ উদ্বোধন দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।India’s Fastest Metro











