পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগের পর পাল্টা হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের। কাবুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। মহিলা ও শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে আফগান সরকারের বক্তব্য, “এই রক্তের হিসাব রাখা হবে। সময় মতো জবাব দেওয়া হবে।” কূটনৈতিক ভাষার আড়াল না রেখে কার্যত কঠোর বার্তাই পাঠানো হয়েছে ইসলামাবাদকে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার জেরে উদ্বেগ বাড়ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। এরফলে সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। (Afghanistan)
সরকারি সূত্রে দাবি, শনিবার গভীর রাতে নাঙ্গারহার ও পাকটিকা প্রদেশে বিমান হানা চালায় পাকিস্তান। বোমাবর্ষণে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। বহু মানুষ জখম হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধারে তৎপর স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়ছেন বলেও জানা গিয়েছে।
হামলার কথা স্বীকার করে পাকিস্তান জানিয়েছে, সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। ইসলামাবাদের বক্তব্য, আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই সীমান্ত-পার অভিযান। (Afghanistan)
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইক, মৃত বহু
তবে কাবুলের সুর আরও কঠোর। তালিবান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বার বার সীমা লঙ্ঘন করলে তার ফল ভোগ করতে হবে। নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলেও সাফ ঘোষণা। কাবুলের দাবি, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা ঘনিয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।











