পশ্চিম এশিয়ায় চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বুকিং করার পর সাধারণ নিয়মেই ২ থেকে আড়াই দিনের মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছে যাবে। LPG Cylinder Booking
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আধিকারিক সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক জায়গায় গ্যাসের অভাব নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কে ঘনঘন বুকিং করছেন। কিন্তু সরকার বলেছে, এই ধরনের ‘প্যানিক বুকিং’-এর কোনও দরকার নেই। কারণ সাধারণ নিয়মে বুকিং করার প্রায় আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া সরকারের নিয়ম অনুযায়ী একটি গ্যাস বুক করার ২৫ দিন পরেই আবার বুকিং নেওয়া হবে কাজেই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
দাম বাড়লেও অপর্যাপ্ত রান্নার গ্যাস, দেখে নিন কোন শহরে কত
সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির হলেও দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে রিফাইনারিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে দেশে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অতিরিক্ত গ্যাস মূলত গৃহস্থালির ব্যবহারকারীদের জন্যই সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমিয়েও সরকার আগে গৃহস্থালির জন্য গ্যাস মজুত করতে তৎপর।
ভারত নিজের চাহিদা মেটাতে প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং এর বড় অংশই পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল থেকে আসে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। LPG Cylinder Booking
এছাড়া বাজারে কৃত্রিম সংকট বা প্রয়োজনের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার মজুতের মতো ঘটনা রুখতে রাজ্য সরকারগুলিকেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুক করতে। সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহে কোনও বড় ধরনের সমস্যা নেই।











