রাতের আকাশে আমরা যত গ্রহ–নক্ষত্র দেখি, তার প্রতিটি নিয়েই মানুষের কৌতূহল বহু প্রাচীন। চাঁদ, সূর্য বাদে কিন্তু এমন দুটি গ্রহ আছে যাদের দেখা যায় না। তবুও জ্যোতিষশাস্ত্রে তাদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি – রাহু ও কেতু। এরা যেন আকাশের অদৃশ্য ছায়া। যাদের উপস্থিতি সরাসরি চোখে ধরা না পড়লেও মানুষের জীবন, ভাগ্য এবং ঘটনাপ্রবাহে তাদের প্রভাব নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে নানা বিশ্বাস, কাহিনি ও বিশ্লেষণ।(Astro)
কে এই রাহু – কেতু? মানুষের জীবনে কী বা তাঁদের গুরুত্ব?
হিন্দু পুরানে সমুদ্র মন্থনের কথা আমরা কম-বেশি সকলেই জানি। বলা হয় দেবতারা যখন অমৃত পান করতে বসেছিলেন। স্বরভানু নামের একটি রাক্ষস ছদ্মবেশে দেবতাদের সারিতে বসে যায় অমৃত পানের লক্ষ্যে(Astro)। তবে বিষ্ণু বিষয়টি অনুধাবন করেন তার সুদর্শন চক্র দিয়ে শিরচ্ছেদ করেন স্বরভানুর। কিন্তু ততক্ষণে অমৃতের একটি বিন্দু চলে গিয়েছিল তার শরীরে। ফলে বেঁচে ওঠে স্বরভানু। শিরচ্ছেদ হওয়ার কারণে মাথাটিকে বলা হয় রাহু এবং ধড়টি হল কেতু। সুতরাং রাহু বিহীন কেতু অপূর্ণ, কেতু বিহীন রাহু।
জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহুকে সাধারণত আকাঙ্ক্ষা, ভোগবিলাস, বিভ্রান্তি এবং হঠাৎ উত্থানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে কেতু নির্দেশ করে আধ্যাত্মিকতা, বিচ্ছেদ, অতীত কর্মফল এবং মুক্তির পথ। অনেক জ্যোতিষীর মতে, মানুষের জন্মকুণ্ডলীতে রাহু ও কেতুর অবস্থান জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, অপ্রত্যাশিত সাফল্য কিংবা কঠিন পরীক্ষার সময় নির্দেশ করতে পারে। (Astro)
তবে রাহু সফলতা দেয়। এমন সফলতা যা রাতারাতি মানুষকে ফকির থেকে রাজায় পরিণত করে। রাহু কিন্তু কূটনৈতিক, প্রখর বুদ্ধির প্রতীক। অনেকে মনে করেন রাজনীতিও রাহুর সঙ্গে সম্পর্কিত। জীবনে হঠাৎ বড় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন-যার কারণ রাহুই । কুষ্টিতে রাহু ভালো থাকলে, মানুষ বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিদেশে সেটেলমেন্ট করতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই রাহু ভ্রম তৈরী করে। যা অনেকটা মরুভূমিতে মরীচিকার মতো। নেশা, জুয়ার অনৈতিক জিনিসের প্রতি আসক্তি তৈরী করে। অনেক সময় রাহু ভুল মানুষের প্রতি গভীর মোহ তৈরী করে। যার থেকে বেরোনো খুবই কঠিন(Astro) হয়ে পরে। রাহুর খিদে কখনও থামে না, উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।
অপরদিকে কেতু, আধ্যাত্মিকতার নিদর্শন। রাহু যেরকম যুক্ত করে কেতু সেই রকম ভাবেই মুক্ত করে। সমাজ,ভালোবাসা, টাকা-পয়সা- এইসব নিয়ে কেতুর মাথা ব্যাথা নেই। সে ভালোবাসা একাকীত্ব। যেইভাবে কেতু প্রধান ব্যক্তির ভাবনা চিন্তা চলে,সেভাবে সমাজটা তার জন্য নয়। কেতু ধর, তাঁর মাথা নেই। সুতরাং কেতু চিন্তা করে হৃদয় দিয়ে, অন্তরদৃষ্টি দিয়ে। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনেক সময় ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনাগুলি দেখতে পায়, আভাস পায়। কেতু প্রধান ব্যক্তি যেই মানুষকে ভালোবাসে, বা সাহায্য করে তার জন্যে প্রাণপাত করে দেয়। আমরা অনেকেই গুরু দত্তর সিনেমা দেখেছি। তার সিনেমাতে দেখা যায় রূঢ় সমাজের নিষ্ঠুরতায় চরিত্র গুলির একাকিত্বের পথ বেছে নেওয়া। সেই একাকীত্বকে ভালোবেসে সারাজীবন বয়ে নিয়ে যাওয়া। এটাই কেতু, এই ভাবেই জগত সংসারের অযাচিত মোহমায়া থেকে মানুষকে বিরত রাখে।(Astro)













1 thought on “Astro: পুরাণের অসুর থেকে জ্যোতিষের ছায়াগ্রহ, রাহু কেতুর অলৌকিক কাহিনী”