আটলান্টিক মহাসাগরে নোঙর করা ডাচ ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত। জাহাজটি চলতি বছরের ২০ মার্চ আর্জেন্তিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ আটলান্টিকের বিভিন্ন দ্বীপ ঘুরে ক্যানারি আইল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটি কেপ ভের্দের কাছে অবস্থান করছে। (Hantavirus)
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান ড. টেড্রোস আধানোম গেব্রেইয়েসাস মিডিয়াকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন। তিনি জানান, শনাক্ত ভাইরাসটি অ্যান্ডিজ ভাইরাস, যা হান্টাভাইরাসের মধ্যে একমাত্র প্রজাতি যা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। এটি সাধারণত ইঁদুরের মল-মূত্রের মাধ্যমে ছড়ায়, কিন্তু অ্যান্ডিজ স্ট্রেনের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগে মানুষে-মানুষে সংক্রমণ সম্ভব। ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, ফলে আরও কেস আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Hantavirus)
ড. টেড্রোস বলেন, “এটি একটি গুরুতর ঘটনা, তবে WHO জানিয়েছে এতে মানুষের জীবনের ঝুঁকি কম।” তিনি জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, জাহাজ আবার চলাচল শুরু করায় যাত্রীদের মনোবল অনেকটাই বেড়েছে। জাহাজে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু রয়েছেন। বর্তমানে কোনও যাত্রী বা ক্রুর নতুন উপসর্গ নেই। (Hantavirus)
WHO ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ড. আবদিরাহমান মাহামুদ জানান, নিশ্চিত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যোগাযোগকারীদের ৪২ দিন সক্রিয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। ড. মারিয়া ভ্যান কেরখোভে, এপিডেমিক অ্যান্ড প্যান্ডেমিক ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর বলেন, “যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক আইসোলেশন করা হবে। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং চলছে। জাহাজে একজন WHO বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে যাত্রী ও ক্রুদের কেবিনে আটকে রাখা হয়েছে। খাবার-জল সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘর থেকে বের হলে মেডিকেল মাস্ক বাধ্যতামূলক। ঘরগুলো নিয়মিত ডিসইনফেক্ট করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন রোগীর দেখাশোনার জন্য উচ্চমানের পিপিই ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে নেওয়া ও পরবর্তী ভ্রমণের জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডসে জাহাজটি পৌঁছানোর পর বিস্তারিত তদন্ত হবে। (Hantavirus)
WHO জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোভিড-১৯ নয় এবং বড় মহামারির আশঙ্কা নেই। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্রমণের চেইন ভাঙা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সব দেশকে সতর্ক করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
Hantavirus: আটলান্টিকে ক্রুজ জাহাজে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, মৃত্যু ৩ — কতটা ভয়ংকর এই সংক্রমণ?











