তেলঙ্গানার ওয়ারঙ্গল জেলায় প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো কাকতিয় যুগের একটি শিব মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সরকারি ইন্টিগ্রেটেড স্কুল নির্মাণের জন্য ৩০ একর জমি পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরনো ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। কিন্তু ঐতিহাসিকদের মতে, এটি ছিল ১৩০০ শতাব্দীর কাকতিয় শাসক গণপতিদেবের আমলের মন্দির। (Telengana Shiv Temple Demolished)
খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগর এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরটিতে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিরল সাত লাইনের তেলেগু শিলালিপি ছিল, যেখানে রাজাকে ‘মহারাজা’ ও ‘রাজাধিরাজুলু’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ১৯৬৫ সালে হেরিটেজ বিভাগের নথিভুক্ত এই স্থাপত্য ‘কোটা কাট্টা’ মাটির দুর্গ এলাকায় অবস্থিত ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্দিরটি সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা সহজেই সম্ভব ছিল। (Telengana Shiv Temple Demolished)
ঘটনার পর তেলঙ্গানার অধিকার আইনজীবী রামা রাও ইম্মানেনি ন্যাশনাল মনুমেন্টস অথরিটিতে অভিযোগ দায়ের করেন। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মামলা রুজু করেছে। তেলঙ্গানা হেরিটেজ অ্যাক্টের ধারা ৩০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কাজের অনুমতি দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার হেরিটেজ কনজারভেশন কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবাদের মুখে ওয়ারাঙ্গল জেলা কালেক্টর ড. সত্য শারদা ও নরসামপেটের বিধায়ক দোঁথি মাধব রেড্ডি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। মে মাসের ৬ তারিখে যৌথ তদন্তের পর প্রশাসন জানায়, ঘন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় পুরনো জীর্ণ কাঠামোর অবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। এটি কোনও সুরক্ষিত স্মারক হিসেবে নথিভুক্ত ছিল না বলে দাবি করা হয়। তবে জনরোষ কমাতে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ঐতিহাসিক, স্থপতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরামর্শে একই জায়গায় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং স্থানটিকে সুরক্ষিত ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। (Telengana Shiv Temple Demolished)
এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক রয়েছে। হেরিটেজ সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
Punjab Blast: পাঞ্জাবে সেনার ক্যাম্পের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণ, চাঞ্চল্য এলাকায়












