---Advertisement---
lifezone nursing home

Bank Loan Waiver: ১,৭২,০০,০০,০০,০০০ টাকা, ব্যাঙ্ক ঋণ মকুবের পালা চলেছেই

March 19, 2026 11:38 AM
bank loan waiver
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
লোকসভায় ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত মন্ত্রী গত সোমবার জানিয়ে দিলেন এবারের মানে ২০২৪-২৫ সালের সব ব্যাঙ্কের খাতা থেকে সন্দেহজনক বা পরিশোধের আশা কম ধরে নেওয়া ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকার লোন বা ঋণ মুছে দেওয়া হলো। যারা এই ধার নিয়েছিল তাঁরা যে লোন বা ঋণ পরিশোধ করা থেকে একবারে মুক্ত হল তা নয়। ঋণ গ্রহীতাদের দায় থাকল ঋণ পরিশোধের আর ঋণ যারা দিয়েছে তাদের দায়িত্ব থাকল তা উদ্ধার করার। কিন্তু একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন যে এই ঋণ উদ্ধার করাটা কতটা বাস্তবসম্মত চিন্তা।

যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯-২০ সালে মুছে ফেলা ২.৪৩ লক্ষ কোটি ঋণের চেয়ে এবারের ঋণ মোছা কম বলে প্রসাদ অনুভব করছেন, কিন্তু ঋণের বিভিন্ন ক্ষেত্র অনুসারে বিশ্লেষণ করলে এক নতুন জিনিস উঠে আসছে। এত দিন ধরে দেখা যেত যে, কৃষিক্ষেত্রে ঋণ মুছে ফেলার অংশই বেশী থাকত। কিন্তু এবার দেখা গেল যে, মুছে ফেলা ঋণের ক্ষেত্রে খুচরো ঋণের পরিমাণ ৪৫,৪০৪ কোটি টাকা যা কিনা অন্যান্য সব ক্ষেত্রের ধার মোছার চেয়ে বেশী। তবে হ্যাঁ, সরকার বাহাদুর অবশ্য এই খুচরো ধার কী কী ভাগে বিভক্ত তা বলেননি। আর কৃষিক্ষেত্রে এই যে ঋণ কম মুছতে হলো, তা কি ভোটের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কৃষি ঋণ মকুবের ফল নাকি অনেক বুঝসুঝে কৃষি ঋণ দেওয়া হয়েছিল তার ফল তাও খোলসা করে বোঝা গেল না।

জরিমানা নিয়েই ১৯ হাজার কোটি টাকা ঘরে তুলল ব্যাঙ্কগুলো

বিগত বছরগুলোতে কর্পোরেট লোন বা ঋণের মুছে ফেলার জন্য সরকার বাহদুর যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তার কোনও প্রভাব এর মধ্যে আছে কিনা সেটাও চিন্তার বিষয়। তবে ব্যাঙ্কগুলোকে যে খুচরো বা রিটেল লোন বা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশী উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল সেটা তো ঠিক। খুচরো লোনের বা ঋণের অনেকাংশ হচ্ছে মানুষের মাসিক বেতন থেকে নেওয়া ধার বা ঋণ, পেনশন থেকে লোন, সোনা বন্ধক রেখে লোন বা একটা বিরাট অংশ হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডের লোন। এই ধারগুলো সাধারণত দেখা যায় ভোগ্য পণ্যের জন্যই ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড থেকে যে ধার বা লোন নেওয়া হয়, তার অনেকাংশই থাকে অসুরক্ষিত। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কিন্তু আগেই ব্যাঙ্কগুলোকে বা ক্রেডিট কার্ড সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে সাবধান করেছিল। কিন্তু অধিক লাভের আশায় তা তারা মানতে চায়নি।

অন্যদিকে নানা শিল্পের যে ৩৭,৭১৬ কোটি টাকার ঋণ মুছে দেওয়া হলো, তার ফলে কোন কোন শিল্প গোষ্ঠী দায় মুক্ত হল তাও খুলে বলা হয়নি। সরকার বাহদুর বলতে চেয়েছেন এই মুছে ফেলা ঋণ উদ্ধারের ব্যাপারে এখন ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ব্যাঙ্ক বা নন ব্যাঙ্কিং কোম্পানিগুলো অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু তার জন্য যে ব্যাঙ্কিং শিল্পকে খয়রাতি করতে হচ্ছে তার হিসাব কে দিচ্ছে? এই লোন বা ঋণ মকুবের চিত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেল যে, নন ব্যাঙ্কিং কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে কম লোন বা ঋণ দেওয়ার ব্যপারে সাবধানতা অবলম্বন করেছে। তবে একটা প্রশ্ন থেকেই গেছে ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার কর্ণধার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এই কোম্পানিগুলোর প্রতি কী ধরনের প্রশাসনিক কাজ করে থাকে তা নিয়ে।

প্রতি বছর যখন কোটি কোটি টাকার ঋণ কী বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর ঋণ বা কী বড় বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মুকুব করা হচ্ছে বা তাদের আর্থিক সঙ্গতির কথা ভেবে কখনও কখনও ঋণের ব্যাপারে সমঝোতা করা হচ্ছে, তখন গরীব ব্যবসায়ী বা সাধারণ কয়েক হাজার টাকা ধার নেওয়া এমন চাকুরিজীবীদের প্রতি ঋণের টাকা উদ্ধারের জন্য ব্যাঙ্কের এমন হম্বি তম্বি কেন?


Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

1 thought on “Bank Loan Waiver: ১,৭২,০০,০০,০০,০০০ টাকা, ব্যাঙ্ক ঋণ মকুবের পালা চলেছেই”

Leave a Comment