নিত্যদিনের যাতায়াত হোক বা লম্বা ট্যুর সব ক্ষেত্রেই ট্রেনের টিকিট বুকিং করার ক্ষেত্রে এখন দেশের বেশিরভাগ মানুষই ডিজিটাল পরিষেবাই বেছে নেন। প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অনলাইনে টিকিট কাটছেন। আর এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই IRCTC-এর অনুমোদিত এজেন্ট হয়ে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছেন। জানেন কি সঠিকভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে এটি বাস্তবে একটি লাভজনক আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
IRCTC এজেন্টের কাজ কী?
একজন IRCTC এজেন্ট হলেন ভারতীয় রেলের অনুমোদিত টিকিট বুকিং প্রতিনিধি। তিনি যাত্রীদের হয়ে ট্রেনের টিকিট বুকিং করেন এবং প্রতিটি টিকিট বুকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পান। তবে একজন IRCTC এজেন্টের কাজ শুধু ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অতিরিক্ত আয়ের জন্য তিনি আরও বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণ-সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেনে খাবার অর্ডার বা e-Catering বুকিং, হোটেল ও লজ রিজার্ভেশন, বিমান টিকিট বুকিং এবং বাসের টিকিট বুকিং। ফলে একজন IRCTC এজেন্ট একসঙ্গে একাধিক পরিষেবা দিয়ে গ্রাহকদের সুবিধা প্রদান করার পাশাপাশি নিজের আয়ের সুযোগও বাড়াতে পারেন।
কিন্তু কীভাবে এই IRCTC এজেন্ট হবেন? জেনে নিন স্টেপ বাই স্টেপ গাইড লাইন।
ধাপ ১: IRCTC-এর অনুমোদিত পরিষেবা প্রদানকারী বেছে নিন
প্রথমেই জানতে হবে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের মতো সরাসরি IRCTC ওয়েবসাইটে গিয়ে এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করা যায় না। এজন্য IRCTC অনুমোদিত Principal Service Provider (PSP) বা Principal Agent-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।Akbar Travels, Sahaj, CSC Cloud-এর মতো একাধিক অনুমোদিত সংস্থা বর্তমানে এই পরিষেবা দিয়ে থাকে। আবেদন করার আগে সংস্থার ফি, পরিষেবা এবং কমিশন কাঠামো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
ধাপ ২: অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করুন
পছন্দের PSP-এর পোর্টালে গিয়ে এজেন্ট নিবন্ধনের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এখানে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় KYC নথি জমা দিন
আবেদন সম্পূর্ণ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি আপলোড করতে হবে। সেগুলি হল—প্যান (PAN) কার্ডের স্ক্যান কপিআধার (Aadhaar) কার্ডের স্ক্যান কপিঠিকানার প্রমাণপত্রপাসপোর্ট সাইজের ছবিমোবাইল নম্বরই-মেল আইডিতবে মনে রাখতে হবে, যে ই-মেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হবে, তা আগে কোনো ব্যক্তিগত IRCTC অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকা চলবে না।
ধাপ ৪: নিবন্ধন ফি জমা করুন
নথিপত্র জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি অনলাইনে প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রে এই ফি সাধারণত ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে (সংস্থার ভিত্তিতে ফি কম-বেশি হতে পারে)। এক বছরের বা দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজ অনুযায়ী খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
ধাপ ৫: যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করুন
আবেদন এবং নথিপত্র জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং IRCTC কর্তৃপক্ষ সেগুলি যাচাই করে। সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদিত হবে।
ধাপ ৬: হাতে পাবেন IRCTC Agent ID
যাচাই সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারীর ই-মেলে অফিসিয়াল IRCTC Agent ID এবং নিরাপদ লগইন তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকেই গ্রাহকদের জন্য টিকিট বুকিংয়ের কাজ শুরু করা যাবে।
EPF গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি, সুদের টাকা জমা পড়বে শীঘ্রই; জেনে নিন কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত
এই কাজে কতটা আয় করা সম্ভব?
একজন IRCTC এজেন্টের আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে প্রতিদিন কতজন গ্রাহক তাঁর থেকে পরিষেবা নিচ্ছেন তার উপর। কমিশন, সার্ভিস চার্জ এবং অন্যান্য ভ্রমণ পরিষেবার মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষত শহর বা মফস্বল এলাকায় যেখানে অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের চাহিদা বেশি সেখানে এই ব্যবসা লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। জানলে অবাক লাগতে পারে তবে এই ব্যবসা যদি ঠিক মতো পরিচালনা করা যায় তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্তও আয় করার সুযোগ রয়েছে। তাহলে এবার আর দেরি নয়। অল্প বিনিয়োগে ডিজিটাল ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আজই এই কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন IRCTC এজেন্ট।











