ক্রিকেট মাঠে তখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের টান টান উত্তেজনা। ভারত বনাম নিউ জিল্যান্ডের লড়াইয়ে আমেদাবাদের স্টেডিয়াম গমগম করছে দর্শকের উল্লাসে। সেই ভিড়ের মাঝেই হঠাৎ যেন ভেসে এল সেই লেজেন্ডারি নস্টালজিক গান। VIP স্ট্যান্ডে উপস্থিত অভিনেত্রী সোনাল চৌহানকে দেখে দর্শকরা একসঙ্গে গেয়ে উঠলেন তাঁর আইকনিক গান ‘জারা সি দিল মে দে জাগা তু’।
এই গানে রঙিন হয়েছে আমাদের ছোটবেলা। বাকি গানগুলির মতই এই গানটিতেও ভুবন মাতিয়েছিলেন কেকে( KK)। মেয়েদের কাছে রীতিমতো আইকনিক প্রপোসিং স্টাইলে পরিণত হয়েছিল গানটি।
হাজারো কণ্ঠে সেই সুর ভেসে আসতেই মুহূর্তটা যেন অন্যরকম আবেগে ভরে ওঠে। সোনালও স্পষ্টতই মুগ্ধ। হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেন, আর নিজের ফোনে ধরে রাখলেন সেই অপ্রত্যাশিত অথচ মিষ্টি স্মৃতি।
পরে সেই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অভিনেত্রী। ক্যাপশনে লেখেন, এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে সত্যিই বিশেষ। পুরোটা হয়তো ক্যামেরাবন্দি করতে পারেননি, কিন্তু ভক্তরা যেভাবে তার গান গেয়েছেন, তা তিনি কখনও ভুলবেন না। সোনালের কথায়, আমার হাসিই হয়তো সবটা বলে দিচ্ছে। ধন্যবাদ আহমেদাবাদ, ভালোবাসা গুজরাট।
সোনাল চৌহানের বলিউডে পথচলা শুরু হয় ২০০৮ সালে কুণাল দেশমুখ পরিচালিত রোমান্টিক থ্রিলার ‘জান্নাত’ ছবির মাধ্যমে। ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। ছবিটির সঙ্গীত বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়, আর তার মধ্যেই ‘জারা সি দিল মে দে জাগা তু’ গানটি আজও ভক্তদের মনে একইরকমভাবে জায়গা করে রেখেছে। কেকে-র কণ্ঠ, প্রীতমের সুর এবং সাঈদ কাদরির কথায় তৈরি সেই গান যেন সময়ের সীমানা পেরিয়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কেকে না থাকলেও তাঁর কণ্ঠে জেনারেশনের পর জেনারেশনে বেঁচে রয়েছে গানটি।
সম্প্রতি সোনালকে দেখা গেছে ২০২৩ সালের ছবি ‘আদিপুরুষ’-এ, যেখানে তিনি মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে আমেদাবাদের সেই ক্রিকেট মাঠে, হাজারো দর্শকের কণ্ঠে নিজের পুরোনো গানের সুর শুনে যে আবেগঘন মুহূর্ত তিনি পেলেন। তা নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় স্মৃতির পাতায় একটি সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে।












