দুর্গাপুজো শেষ হতেই এ বার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বাঙালির ঘরে ঘরে। আগামী ২৫ অক্টোবর, রবিবার পালন করা হবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, দিনটি ৭ কার্তিক, ১৪৩৩। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৫ অক্টোবর। শেষ হবে পরের দিন, ২৬ অক্টোবর সকালে। তবে পঞ্জিকা ভেদে তিথি শুরুর ও শেষের সময়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। দ্রিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রাতে নিশীথ পুজোর শুভ সময় থাকছে প্রায় ৫০ মিনিট। জেনে নিন পূর্ণিমা তিথি এবং লক্ষ্মীপুজোর সময়সূচি। (Kojagari Lakshmi Puja 2026)
কবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো?
দুর্গাপুজোর পর বাঙালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গীয় হিন্দু বাঙালি পরিবারে এই পুজোর প্রচলন বেশি। ধনসম্পদ, সৌভাগ্য, যশ এবং সুস্বাস্থ্য কামনায় গৃহস্থের ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।২০২৬ সালে ২৫ অক্টোবর, রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হবে। এই দিন সন্ধ্যা থেকে বহু বাড়িতে পুজোর আয়োজন শুরু হবে। বাড়িতে আলপনা দেওয়া, পুজোর উপকরণ সাজানো এবং নৈবেদ্য তৈরির মাধ্যমে প্রস্তুতি নেবেন ভক্তরা। (Kojagari Lakshmi Puja 2026)
কখন শুরু ও শেষ হবে পূর্ণিমা তিথি?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে। দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রবিবারই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হবে। যেহেতু এই পুজোর সঙ্গে রাতের বিশেষ যোগ রয়েছে, তাই পূর্ণিমার রাতে দেবীর আরাধনা করা হয়।
কখন পুজোর শুভ সময়?
দ্রিক পঞ্জিকার কলকাতাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রাতে নিশীথ পুজোর শুভ সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ মিনিট ধরে থাকবে এই সময়। তবে বাঙালি পরিবারে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সন্ধ্যাতেও লক্ষ্মীপুজো করা হয়। তাই পুজোর সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রথা এবং স্থানীয় পঞ্জিকা অনুসরণ করা যেতে পারে। (Kojagari Lakshmi Puja 2026)
কেন বলা হয় কোজাগরী পূর্ণিমা?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে ‘কো জাগর্তি’ থেকে। এর অর্থ, ‘কে জেগে আছো’। লোকবিশ্বাস, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে ঘুরে দেখেন, কে জেগে তাঁর আরাধনা করছেন। যাঁরা রাত জেগে দেবীর পুজো করেন, তাঁরা দেবীর বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন বলে মনে করা হয়। শারদ পূর্ণিমাকে কৌমুদী পূর্ণিমাও বলা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে চাঁদের ষোলো কলা পূর্ণ হয়। অনেকে মনে করেন, এই পূর্ণিমাতেই দেবী লক্ষ্মীর জন্ম হয়েছিল।
পুজোয় পায়েস ও প্রদীপের বিশেষ গুরুত্ব
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় পায়েস তৈরি করে সারা রাত চাঁদের আলোয় রেখে দেওয়ার রীতি রয়েছে। পরের দিন সকালে সেই পায়েস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়। অনেক পরিবারে সারা রাত ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়। পুজোর পর শিশু, বৃদ্ধ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার খাওয়ানোর রীতিও প্রচলিত রয়েছে। ধনসম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির আশায় এ দিন ভক্তিভরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন বাঙালিরা। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং প্রদীপের আলোয় পূর্ণিমার রাতে মুখর হয়ে ওঠে ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো। (Kojagari Lakshmi Puja 2026)











