শিবের উপাসনায় রুদ্রাক্ষের গুরুত্ব বহু দিনের। প্রচলিত বিশ্বাস, ভগবান শিবের অশ্রু থেকেই রুদ্রাক্ষের উৎপত্তি। তাই শিবভক্তদের অনেকেই গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করেন। তবে জানেন কি, রুদ্রাক্ষ এক রকমের নয়, এর মুখের সংখ্যার উপর নির্ভর করে রয়েছে বিভিন্ন ধরন। একমুখী থেকে একুশমুখী রুদ্রাক্ষের প্রত্যেকটিরই আলাদা ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি আসে।
Significance of Rudraksha: রুদ্রাক্ষ কয় প্রকারের হয়?
রুদ্রাক্ষের গায়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া উল্লম্ব রেখাকে বলা হয় মুখী। এই রেখার সংখ্যা অনুযায়ী রুদ্রাক্ষের নামকরণ করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে একমুখী থেকে একুশমুখী রুদ্রাক্ষ হয়ে থাকে। তবে এই প্রতিটি ধরনের কিছু আলাদা আলাদা বিশেষত্বও রয়েছে। সেগুলি হলো—
একমুখী: শিবের সঙ্গে যুক্ত। আধ্যাত্মিক উন্নতি ও একাগ্রতার প্রতীক। ধনসম্পদ সংক্রান্ত সমস্যা কাটাতেও এটি ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
দ্বিমুখী: অর্ধনারীশ্বরের প্রতীক। দাম্পত্য জীবন, সম্পর্ক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে বিশ্বাস।
ত্রিমুখী: অগ্নিদেবের সঙ্গে যুক্ত। অতীতের বোঝা থেকে মুক্তি ও নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রতীক।
চতুর্মুখী: ব্রহ্মার প্রতীক। জ্ঞান, পড়াশোনা, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।
পঞ্চমুখী: কালাগ্নি রুদ্রের প্রতীক। শান্তি, আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক মঙ্গলের জন্য বহুল প্রচলিত।
ষষ্ঠমুখী: কার্তিকের প্রতীক। সাহস, মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রতীক।
সপ্তমুখী: দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে যুক্ত। আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
অষ্টমুখী: গণেশের প্রতীক। বাধা কাটিয়ে নতুন কাজে সাফল্যের জন্য ধারণ করা হয়।
নবমুখী: দুর্গার প্রতীক। শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
দশমুখী: বিষ্ণুর প্রতীক। জীবনে স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার প্রতীক।
পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তিল-জল দান, জানুন মহালয়ার পিছনের পৌরাণিক কাহিনি
একাদশমুখী: হনুমান ও একাদশ রুদ্রের সঙ্গে যুক্ত। শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
দ্বাদশমুখী: সূর্যদেবের প্রতীক। নেতৃত্ব, তেজ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
ত্রয়োদশমুখী: ইন্দ্র ও কামদেবের সঙ্গে যুক্ত। আকর্ষণ, ইচ্ছাপূরণ ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
চতুর্দশমুখী: শিবের তৃতীয় নয়নের প্রতীক। অন্তর্দৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত।
পঞ্চদশমুখী: পশুপতিনাথের প্রতীক। মানসিক ভারসাম্য ও আসক্তি থেকে মুক্তির সঙ্গে যুক্ত।
ষোড়শমুখী: মহামৃত্যুঞ্জয় শিবের প্রতীক। সুরক্ষার জন্য ধারণ করা হয়।
সপ্তদশমুখী: বিশ্বকর্মার প্রতীক। সৃজনশীলতা, সাফল্য ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
অষ্টাদশমুখী: ধরিত্রী মাতার প্রতীক। স্থিতিশীলতা ও বৈষয়িক সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
ঊনবিংশমুখী: নারায়ণের প্রতীক। সাফল্য ও পরিপূর্ণতার সঙ্গে যুক্ত।
বিংশমুখী: বিরল রুদ্রাক্ষ। একাধিক দিব্য শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়।
একবিংশমুখী: কুবেরের প্রতীক। প্রাচুর্য, সম্পদ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
কীভাবে ধারণ করবেন রুদ্রাক্ষ?
রুদ্রাক্ষ ধারণের আগে বিশেষ মন্ত্র জপ করার রীতি রয়েছে। যেমন, একমুখী ও পঞ্চমুখীর ক্ষেত্রে ‘ওম হ্রীং নমঃ’, দ্বিমুখীর ক্ষেত্রে ‘ওম নমঃ’ এবং ত্রিমুখীর ক্ষেত্রে ‘ওম ক্লীং নমঃ’ জপ করার কথা বলা হয়েছে। (Significance of Rudraksha)
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে রুদ্রাক্ষ ধারণ করা অত্যন্ত শুভ। তবে মনে রাখতে হবে, রুদ্রাক্ষের উপকারিতা মূলত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। এগুলির মাধ্যমে আর্থিক সমস্যা, রোগ বা জীবনের বাধা নিশ্চিতভাবে দূর হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।













1 thought on “কোন রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে মিলবে ফল? জেনে নিন ১ থেকে ২১ মুখীর বিশেষত্ব”
Comments are closed.