আকাশপথে ভ্রমণ ক্রমশই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল অর্থাত এটিএফ এর দাম প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ানের টিকিটের দাম হু হু করে বাড়ছে। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা পিছিয়ে দিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।(ATF Price at Hike)
গত ১ এপ্রিল থেকে জ্বালানি সংস্থাগুলির ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির পরই এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দিল্লিতে এটিএফের দাম এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,০৭,৩৪১ টাকা প্রতি কিলোলিটারে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অন্যান্য মেট্রো শহরেও একই চিত্র। যদিও সরকার অন্তর্গত উড়ানের জন্য দাম বৃদ্ধি সীমিত রেখেছে, আন্তর্জাতিক ও নন-শিডিউল্ড বিমানগুলিতে প্রভাব পড়েছে। (ATF Price at Hike)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানির পেছনে খরচ হয়। তাই এটিএফের দাম বাড়লেই তার সরাসরি প্রতিফলন পড়ে টিকিটের মূল্যে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনপ্রিয় দেশীয় রুটে ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক রুটগুলিতে তো বাড়তি চাপ আরও বেশি। এরফলে পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিমান সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য খরচও বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। অনেক সংস্থা ইতিমধ্যে ফুয়েল সারচার্জ বাড়িয়েছে। (ATF Price at Hike)
যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যে টিকিটের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ছিল, এখন তা অনেকটাই অসাধ্য হয়ে উঠেছে। ফলে বিমান ভ্রমণ শুধুমাত্র ধনীদের বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কর কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে এটিএফের দাম বেড়েছে। আগামী দিনে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না আসে, তবে বিমান ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (ATF Price at Hike)
এই পরিস্থিতিতে যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আকাশপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের কাছে আরও সীমিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্খা করা হচ্ছে ।












