শনিবার সকাল থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়েছিল। বেলা গড়াতেই ধর পাকড় আরও বাড়ে। কার্যত লকডাউন তৈরি হয়েছিল রাজধানী জুড়ে। সন্দেহ হলেই আটক। তারপর ভ্যানে করে আটকদের অন্য়ত্র নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ বিক্ষোভে সামিল হতে আসছিলেন, আবার কেউ সংবাদ সংগ্রহ করতে বেরিয়েছিলেন। দুপুর পর্যন্ত এমনই ছবি উঠে আসতে থাকে। এই আটকদের তালিকায় রয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (cjp)-র বেশ কয়েকজন নেতা, রাজনীতিবিদ, আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকরাও (delhi protest)।
delhi protest: আটক রাজনীতিবিদরা
শনিবার cjp-র বিক্ষোভে সামিল হতে গিয়ে আটক করা হয়েছে দেশের চার চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই তালিকায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকার। দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলেকে। বিক্ষোভকারীদের যন্তর-মন্তরে জমায়েত হওয়া ঠেকাতে রাজধানী জুড়ে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। কেরালার কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম) ‘এক্স’ (X)-এ পোস্ট করে জানিয়েছে, যন্তর-মন্তরে পৌঁছানোর পর দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে। আটক নেতাদের তালিকায় রয়েছেন এম এ বেবি, পিনারাই বিজয়ন, এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল, বৃন্দা কারাত এবং পি কে শ্রীমতী। এই আন্দোলন কেবল দিল্লির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মুম্বইতে তুষার গান্ধীকে এবং চণ্ডীগড়ে মণীশ সিসোদিয়াকে আটক করা হয়।
দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভিতর CJP নেতাদের আটক
দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পরই সিজেপি- নেতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানের ভেতর থেকে আটক করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মূল সংগঠকদের মধ্যে এই তিনজনও ছিলেন। ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকেও সাফদারজং বিমানবন্দরের কাছে আটক করা হয়।
আটক সাংবাদিকরাও
শনিবার যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ‘স্ক্রল’-এর আয়ূষ তিওয়ারি, ‘নিউজলন্ড্রি’-র অশ্বিনী কুমার সিং ও আস্থা সব্যসাচী এবং ‘নবভারত টাইমস’-এর রাহুল চরাস ও হৃতিক জোশি। জানা গেছে, চরাস ও জোশিকে অল্প সময়ের জন্য আটক করে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের আটক বা বাধা দেওয়ার এসব ঘটনা প্রতিবাদস্থলে প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি রয়েছেন, অভিনেতা রাজ জুৎসি, সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠী। সেই সব আটক ব্যক্তিদের বাস ও ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে।












1 thought on “মমতা সহ চার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক দিল্লিতে, বাদ গেলেন না সাংবাদিকরাও”
Comments are closed.