মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা। (Earthquake India) ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র তথ্য অনুযায়ী, একের পর এক কম্পন অনুভূত হয়েছে মণিপুর এবং মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে, যার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
প্রথম কম্পন অনুভূত হয় ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৬ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের থিকেগিন এলাকা। এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সকাল ৫টা ৫৯ মিনিটে মণিপুরের কামজং জেলায় আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.২। এই কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।(Earthquake India)
এতেই শেষ নয়। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে আবারও একটি মৃদু কম্পন ধরা পড়ে, যার মাত্রা ছিল ৩.৩। এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল চোংদান এলাকার কাছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনাগুলি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে ভূকম্পনজনিত কার্যকলাপ কিছুটা বেড়েছে। এর একদিন আগেই জাপানের উপকূলে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ধরা পড়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এছাড়াও, সোমবার মায়ানমারেও দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল—একটি সকাল ১০টা ৭ মিনিটে, যার মাত্রা ছিল ৪.৩ এবং অন্যটি রাত ৯টা ৩১ মিনিটে, যার মাত্রা ছিল ৩.৮।
শুধু এশিয়াতেই নয়, দক্ষিণ আমেরিকাতেও ভূমিকম্পের খবর মিলেছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫২ মিনিট নাগাদ কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর অঞ্চলে ৫.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরপর কম্পন ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাসও হতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই সবচেয়ে জরুরি।(Earthquake India)











