রবিবার রাতে সোলাং ভ্যালি, আরকি বাজার সংলগ্ন পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আচমকা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হিমাচল প্রদেশের শান্ত পাহাড়ি শহর আরকি এক রাতেই পরিণত হল ভয়াবহ বিপর্যয়ের কেন্দ্রে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকান ও বসতবাড়িতে। পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন সেখানে রাখা একাধিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পরপর বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। Himachal Fire
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৭–৮ বছরের এক শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি এখনও ৮ থেকে ৯ জন নিখোঁজ, যাঁদের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরকি বাজারের বহু দোকান ও ঘর কাঠ ও টিনের তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দমকল বাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজার এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন, নষ্ট হয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবিকা। Himachal Fire
আরকির কংগ্রেস বিধায়ক সঞ্জয় অবস্থি জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১৫টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুলিশ সুপার গৌরব সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন নেভার পর ইউকো ব্যাংকের একটি শাখা থেকে ওই শিশুর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাজার এলাকার একটি বাড়িতে থাকা নেপালি পরিবার রাতের বেলা আগুন জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিল, সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এই অগ্নিকাণ্ড আবারও পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ও গ্যাস ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ দুর্বলতাকে সামনে এনে দিল।









