মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে তৎপর নয়াদিল্লি। গত কয়েকদিনে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর (Jay Sankar) সঙ্গে তিনবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরপরই রবিবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,’এই মুহূর্তে আমি তাদের (ইরানের) সঙ্গে কথা বলছি এবং এই আলোচনায় কিছু ইতিবাচক ফলাফলও মিলেছে। এই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের বক্তব্য, সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো গেলে তা ভালো।’ ফলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই জাহাজগুলি যেতে দেওয়ার বিনিময়ে ভারত ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিবদ্ধ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে লেনদেনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ভিত্তিতেই তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কোনও চুক্তির বিনিময়ে কিছু হয়নি। ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এবং বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, তা আমরা দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করি।’
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ পার করা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ ভারতের কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েেছে। এটি কেবল শুরু। সেখানে আমাদের আরও অনেক জাহাজ রয়েছে। আলোচনা এখনও চলছে। এই নিয়ে এখনও অনেক কাজ করা বাকি।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক স্তরেও জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিন কয়েক আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। ভারতের মূল লক্ষ্য, ভারতগামী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করা। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের (Jay Sankar) সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফলে এই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে জয়শঙ্করের আলোচনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুটি জাহাজ নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করা হয় রিপোর্টে। এছাড়া জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ট্যাঙ্কার গত ১১ মার্চ মুম্বইতে এসেছিল। ইরান যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল নিয়ে ভারতে আসা প্রথম কোনও জাহাজ ছিল সেটি।











