রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতে যারা বসবাস করেন, তারা সবাই হিন্দু।” আর এখন থেকেই শুরু বিতর্কের। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কীভাবে সবাইকে ‘হিন্দু’ তকমা দেওয়া যায়? এই প্রশ্ন তুলছে একাংশ। Mohan Bhagwat RSS
যদিও মোহন ভাগবত জানান, ‘হিন্দু’ শব্দটি একটি বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ যা এই ভূখণ্ডের সভ্যতাগত পরিচয় বহন করে। তাঁর মতে, হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা ভারতীয় সংস্কৃতি, সহনশীলতা, সহাবস্থান ও বহুত্ববাদই হিন্দু ভাবনার মূল ভিত্তি। সেই কারণেই ভারতের মধ্যে বসবাসকারী সব সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষই এই সভ্যতার অংশ, এবং সেই অর্থে তাঁরা সবাই হিন্দু।
নিজের বক্তব্যে RSS প্রধান সমাজে হিন্দু পরিচয়ের চারটি ভিন্ন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ আছেন যাঁরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। আবার আরেক শ্রেণির মানুষ হিন্দু পরিচয় মেনে নিলেও তাতে কোনও গর্ব অনুভব করেন না। তৃতীয় শ্রেণির মানুষ প্রকাশ্যে নয়, ব্যক্তিগত পরিসরে নিজেদের হিন্দু বলে স্বীকার করেন। আর চতুর্থ শ্রেণির মানুষ এমন, যাঁরা নিজেদের হিন্দু পরিচয় ভুলে গেছেন বা যাঁদের সেই পরিচয় ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাগবত আরও বলেন, হিন্দুত্ব মানে কাউকে নিজের ধর্ম, ভাষা বা উপাসনা পদ্ধতি ত্যাগ করতে বলা নয়। বরং এটি ছাতার মতো যার নীচে সকলেই নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে সহাবস্থান করতে পারেন।
RSS প্রধানের এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এই বক্তব্যকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন। সব মিলিয়ে, “ভারতে সবাই হিন্দু” মন্তব্যটি নতুন করে পরিচয়, সংস্কৃতি ও সংবিধানিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত আলোচনাকে উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। Mohan Bhagwat RSS











