Site icon Hindustan News Point

জল বিক্রি থেকে রামমন্দিরের দান গণনা, অভিযুক্তের বাড়িতে ₹২০ লক্ষ উদ্ধার! ঘনীভূত রহস্য

Donation Theft

অযোধ্যার রামমন্দিরের (Donation Theft) দান তছরুপ মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার বাড়ি থেকে নগদ ₹২০ লক্ষ, বিদেশি মুদ্রা এবং সোনার-রুপোর গয়না উদ্ধার। মাত্র কয়েক মাস আগে পর্যন্ত যিনি স্বল্প বেতনের প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জল বিক্রির কাজও করতেন। তাঁর কাছ থেকে বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারে তদন্তের মোড় আরও জটিল হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কার্যপদ্ধতি এবং তদন্তে বিলম্বের বিষয়টিও।

(Donation Theft) তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অবিনাশ শুক্লা রামমন্দিরের দান গণনা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কীভাবে সীমিত আয়ের এক ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা খতিয়ে দেখছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। সূত্রের খবর, গত ৫ জুন দান গণনায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরই অবিনাশকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করা হয় দু’দিন পরে, ৭ জুন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।

এই দুই দিনের বিলম্ব এখন সিট তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অযোধ্যার শ্যাম সাধন যোগ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, অবিনাশের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুবই সাধারণ ছিল। তিনি প্রায় ₹১৪,০০০ থেকে ₹১৫,০০০ মাসিক বেতনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। রামমন্দিরের দান গণনার বিভাগে চলতি বছরের মার্চ মাসে যোগদানের আগে তিনি হনুমান গুফা এলাকায় জল বিক্রি করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা টাকা পরে পাচার হত ! রামমন্দিরে তহবিল তছরুপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই (Donation Theft) মামলায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে অবিনাশের বাড়ি থেকেই সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার প্রকাশ্যে আসা বাজেয়াপ্তির নথি অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি থেকে ১,১২১ মার্কিন ডলার, ১৫৯.৫৪ গ্রাম রুপোর গয়না, আট গ্রাম ওজনের একটি সোনার চেন এবং ৩.৪৪ গ্রাম ওজনের একটি সোনার আংটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

(Donation Theft) মামলার অন্যতম সাক্ষী সেবাদার সুন্দরলালের দাবি, গত ৫ জুন চারজন পুলিশকর্মী এবং ট্রাস্ট-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি অবিনাশকে নিয়ে অযোধ্যার কৌশলপুরীর শ্যাম সাধন যোগ কেন্দ্রে আসেন। সেখানে একটি চাবি দিয়ে ট্রাঙ্ক খুলে দুটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যাগ থেকেই প্রায় ₹২০ লক্ষ উদ্ধার হয়েছে।

যোগ প্রশিক্ষক সীমা তিওয়ারির দাবি, অবিনাশের ভাই অভিষেক শুক্লা দীর্ঘদিন ধরে যোগ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মন্দির-সংলগ্ন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই অবিনাশের রামমন্দিরের দান গণনার বিভাগে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এদিকে, এই বিতর্ক পৌঁছে গিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও। সূত্রের খবর, পূর্ব উত্তরপ্রদেশের আঞ্চলিক প্রচারক অনিল কুমার সম্প্রতি তিন দিন অযোধ্যায় থেকে মন্দির পরিচালনা ও দান তছরুপের অভিযোগ নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেছেন, যা ইতিমধ্যেই RSS প্রধান মোহন ভাগবতের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৬ জুলাই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের দাবি, ট্রাস্টের পুনর্গঠন, সাধু-সন্তদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং কয়েকজন পদাধিকারীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব পুনর্বিবেচনার বিষয়গুলি সেখানে আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ভবিষ্যৎ ভূমিকাও এই বৈঠকে নির্ধারিত হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? বড় ইঙ্গিত দিলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী


Exit mobile version