পাকিস্তান মানেই কি শুধু জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর, সংঘাত আর ভারতের শত্রু দেশ? সেই দেশের মানুষজন কি সত্যিই এতটাই নির্মম? প্রতিটি ভারতীয়র মনেই মোটামুটি দেশটি সম্পর্কে এমন একটি ধারণা রয়েছে। তবে এই ধারণার বাইরে গিয়েও সম্প্রতি এক অন্য পাকিস্তানের ছবি তুলে ধরলেন এক ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আর তাঁর সেই অভিজ্ঞতার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। (Viral Video)
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ভারতীয় তরুণী হর্ষনীত কৌর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কাটানো নিজের তিন বছরের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে থাকার সময় সেখানকার মানুষজনের ভালোবাসা, আতিথেয়তা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। ভিডিওর শুরুতেই হর্ষনীত বলেন, “একজন ভারতীয় হিসেবে পাকিস্তানে তিন বছর থাকার অভিজ্ঞতায় এমন অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমি খুব ভালোবেসেছি।” এরপরই তিনি বলতে শুরু করেন সেখানকার সাধারণ মানুষদের কথা।
হর্ষনীত জানান, তিনি যেখানেই গিয়েছেন, সেখানকার মানুষের থেকে তাঁরা যে আন্তরিকতা পেয়েছেন তা বলে বোঝানো সম্ভব না। হর্ষনীতের বাবার মাথায় পাগড়ি থাকায় অনেকেই স্নেহভরে বলতেন, “সর্দারজি, চা খেয়ে যান, খাবার খেয়ে যান।” তাঁদের না খাইয়ে কেউই ছাড়তে চাইতেন না বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের মানুষের এই আন্তরিক ব্যবহার আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে।
শুধু মানুষই নয়, ইসলামাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। হর্ষনীত জানান, ইসলামাবাদের চারপাশে পাহাড় আর সবুজের দেখা মিলত। বিশেষ করে মারগাল্লা হিলস তাঁর খুব প্রিয় জায়গা ছিল। সকাল, দুপুর কিংবা সন্ধ্যা সব সময়ই পাহাড়ি দৃশ্য মন ভালো করে দিত। (Viral Video)
তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদ থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে রয়েছে মুর্রি নামে একটি পাহাড়ি এলাকা। সেখানকার একটি ভিউ পয়েন্ট থেকে পুরো শহরটাকে দেখা যেত। চারপাশে কাবাবের দোকান, রেস্তোরাঁ আর পাহাড়ি পরিবেশ— সব মিলিয়ে জায়গাটা ওই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছিল।
মোদী-মেলোনি ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তি! অন্য ‘পার্লে’র শেয়ার কিনে বসলেন বিনিয়োগকারীরা
হর্ষনীত আরও জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে তিনি পড়াশোনা করতেন। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সেই স্কুলে উট, গরু-সহ বিভিন্ন পশু আনা হতো এবং পড়ুয়ারা তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেত। এই অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে ছিল বেশ অন্যরকম ছিল। স্কুলের খেলাধুলার পরিকাঠামোরও প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, পাকিস্তানে কাটানো সেই তিন বছর তাঁকে শুধু নতুন অভিজ্ঞতাই দেয়নি, বরং দেশটির মানুষ, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি এক আলাদা ভালোবাসাও তৈরি করেছে। (Viral Video)
হর্ষনীতের এই ভিডিও সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতা দুই দেশের মানুষকে আরও কাছাকাছি আনতে সাহায্য করতে পারে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কে সমীকরণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।











