রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

‘কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য তিন পয়েন্ট’,আক্ষেপ চান না হাবাস

Published on: October 13, 2026
east bengal vs al shorta
---Advertisement---

এবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে ইরাকের শক্তিশালী দল আল শোর্তার মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। ঘরের মাঠে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচ। শিল্ড ফাইনালে ডার্বিতে হারের ক্ষত এখনও দগদগে ইস্টবেঙ্গলের। ডার্বিতে হার ও অল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও তিন পয়েন্টেই চোখ লাল হলুদের। জয় গুপ্তাকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বন্দুকে ট্রিগার টেপার ভঙ্গি করলেন আন্তেনিও লোপেজ হাবাস (east bengal vs al shorta)।

টিম মিটিং-এ হাবাস (east bengal vs al shorta) বলেই দিয়েছেন,‘কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য তিন পয়েন্ট।’ডার্বির পর প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ করতে চান না হাবাস। বলেছেন, ‘খুব কম সময় পেয়েছি প্রস্তুতির জন্য, তবে কোনও অজুহাত দিতে চাই না। আল শোর্তা অবশ্যই এই গ্রুপের অন্যতম সেরা এবং ফেভারিট দল। তবে আমরা কলকাতায় খেলছি, এবং যুবভারতীর এই পরিবেশ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা শুরু থেকেই জয়ের জন্য ঝাঁপাব।’

ইষ্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ দল সবচেয়ে শক্তিশালী। ইতিমধ্যে ইরাকের ক্লাব দলটি তাদের দেশের লিগের ডার্বি জিতে কলকাতায় খেলতে এসেছে। যদিও তারা লিগের পয়েন্ট টেবিলে স্বস্তিতে নেই। গত আটটি ম্যাচে অপরাজিত থাকলেও প্রথম তিনে নেই আল শোর্তা (east bengal vs al shorta)।

দলে দুই নতুন বিদেশি হাবাসের লুকানো অস্ত্র হতে পারেন। যদিও তাদের দক্ষতা সম্পর্কে এখনই শংসাপত্র দিতে নারাজ। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কোনও খেলোয়াড়কে পুরোপুরি চেনা যায় না। তবে এশিয়ার ফুটবল মানচিত্রের অন্যতম বড় মঞ্চে দলের প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত তা জানিয়েছেন।

আল শোর্তা সাত বিদেশি নিয়ে কলকাতায় এসেছে। তাদের মধ্যে অধিনায়কের অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে কলকাতায় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

যদিও আল শোর্তা দলে ৭ বিদেশি থাকার সুবিধাকে পাত্তা দিতে নারাজ লাল-হলুদ হেডস্যার। তার মতে, ‘কাগজে-কলমে ক’জন বিদেশি রয়েছে তা দিয়ে ফুটবল হয় না। মাঠে নামলে লড়াইটা হয় ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের। আমাদের ভারতীয় ফুটবলাররাও যথেষ্ট দক্ষ এবং বিদেশিদের সমকক্ষ। মাঠে কোচেদের মধ্যে লড়াই হয় না, পারফর্ম করতে হয় খেলোয়াড়দেরই।’

জর্ডনের মাটিতে ৮৫মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকে জয় ফেলে আসতে হয়েছে। আইএফএ শিল্ড ডার্বিতে ছোট ভুলে ভুগতে হয়েছে।এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার বথলে সাজঘরে বৈঠকেই সমস্যা মেটানোর পক্ষে তিনি।
কোচের সুর দলের অন্যতম সিনিয়র ফুটবলার জয় গুপ্তার মুখে। তিনি বাংলা এবং কলকাতার আবহে জয়ের রঙ লাগাতে চান। সাংবাদিক সম্মেলনে বসে বলছেন, “গত বছর এই দুর্গাপুজোর সময়েই আমি ইস্টবেঙ্গলে সই করেছিলাম এবং এই মাঠেই আমার অভিষেক গোলটি পেয়েছিলাম। কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন আল শোর্তা এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, তবে আমি তা মানতে রাজি নই। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমাদের দলের রয়েছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে ঘরের মাঠে আমরা দারুণভাবে কামব্যাক করব এবং পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নেব।’
সদ্য দেশের জার্সিতে তিনটি ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলে এসেছেন।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা আমাকে পরিণত করেছে বলে দাবি জয় গুপ্তার।

ব্রাজ়িল, উরুগুয়ে কিংবা পানামার মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতার নিরিখে জয় গুপ্তা বলেছেন, ‘বড় ম্যাচগুলোতে স্নায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো নব্বই মিনিট আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পাঠ আমি জাতীয় দল থেকেই পেয়েছি। অতিরিক্ত ম্যাচের ক্লান্তি নিয়ে আমি একেবারেই ভাবছি না। একজন ফুটবলারের কাছে আরও বেশি ম্যাচ খেলা মানেই আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন।’
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজের আবেগের স্মৃতি টেনে জয়ের বাড়তি সংযোজন ,‘ ‘ইতিহাস ফিরে আসবে’, শক্তি মা দুর্গার আশীর্বাদ, আল সোর্তাকে হারাতে তৈরি ইস্টবেঙ্গল।

অন্যদিকে,ইরাকের আল শোর্তা এসসি তৈরি। ইস্টবেঙ্গল কে সমীহ করলেও তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার হুংকার দিলেন ইরাকের ক্লাবের হেড কোচ সামি ত্রাবেলসি এবং মিডফিল্ডার বাসাম শাকের আহমেদ।

আল শোর্তার তিউনিশীয় কোচ ত্রাবেলসি বলেছেন, ‘এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ হতে চলেছে। আমরা ওদের বেশ কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। ভারতীয় ফুটবলের মান এই মুহূর্তে অনেকটাই উন্নত হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল দল হিসেবে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, প্রচুর গোলও করছে। ওদের স্কোয়াডে ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একাধিক বিপজ্জনক খেলোয়াড় রয়েছে—ভালো স্ট্রাইকার এবং মিডফিল্ডার আছে। তবে আমরা এখানে ড্র করতে আসিনি, সম্পূর্ণ ইতিবাচক ফলাফল এবং তিন পয়েন্ট পেতেই মাঠে নামব।’

‘ইরাকের আবহাওয়া এর চেয়েও বেশি গরম। সেখানে মাঝে মাঝে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমেও আমাদের খেলতে হয়। তবে কলকাতার আবহাওয়ায় কাতার বা সৌদি আরবের মতো আপেক্ষিক আর্দ্রতা রয়েছে। আবহাওয়া নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। মূল সমস্যা হলো ম্যাচ সূচি। আমরা গত এক মাসে প্রায় ৯টির বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। প্রতি তিন-চার দিন অন্তর খেলা এবং কাতার থেকে টানা ১২-১৩ ঘণ্টার বিমান যাত্রার কারণে কিছুটা শারীরিক ক্লান্তি রয়েছে। তবে এত ম্যাচ খেলার ফলে দলের বোঝাপড়া ও ম্যাচ-ফিটনেস দারুণ জায়গায় আছে,’ বলছেন ইরাকের দলটির হেডস্যার।

তবে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই কোনও দলকেই এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখতে নারাজ আল শোর্তা শিবির। তবে আগামী সপ্তাহের কঠিন সূচির কথা মাথায় রেখে যুবভারতীর মাঠ থেকেই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শুরু করতে মরিয়া ইরাকের চ্যাম্পিয়নরা।


Rima Dutta Ghosh

প্রায় ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতার জগতে। শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যাদবপুর ইউনির্ভারসিটি থেকে মাস কম-এ পড়াশোনা করতে করতেই জেলা সাংবাদিকতায় ঢোকা। তারপর থেকেই শুরু চড়াই-উতরাই। সেখান থেকে এবটি ওয়েট পোর্টালে কপি রাইটার হিসাবে কাজ শুরু। তারপর টেলিভিশন জগতে। সেখানে প্রায় ৪ বছর কাজ করা। কপি রাইটার থেকে বুলেটিন প্রডিউসার। কথাটা সহজ হলেও পথ চলাটা ছিল কঠিন।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now