[ছবি:এক্স]
বিশ্বকাপের নক-আউট মঞ্চে ইতিহাস গড়ল (Egypt) মিশর। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এক অদ্ভুত দৃশ্য—পেনাল্টি শুটআউট শুরু হওয়ার ঠিক আগে মিশরের ফুটবলাররা একটি ট্যাবলেটে কিলিয়ান এমবাপের ভিডিয়ো দেখছিলেন। যা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে কেন? সেই রহস্যের উত্তরই যেন লুকিয়ে ছিল তাদের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় (Egypt) মিশর। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিল সালাহরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে বড়সড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পোপোভিচ। তিনি প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে তুলে এনে মাঠে নামান অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানকে। ধারণা ছিল, পেনাল্টি শুটআউটে অভিজ্ঞ রায়ানই দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দেবেন।
কিন্তু ঠিক তখনই দেখা যায়, (Egypt) মিশরের ফুটবলাররা একটি ট্যাবলেট ঘিরে রয়েছেন। সেখানে চলছিল কিলিয়ান এমবাপের একটি পেনাল্টি নেওয়ার ভিডিয়ো। পরে জানা যায়, সেটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপের নেওয়া এমন একটি পেনাল্টির ভিডিয়ো, যেখানে গোলপোস্টে ছিলেন ম্যাথিউ রায়ান। মূল উদ্দেশ্য ছিল রায়ানের ডাইভ দেওয়ার ধরন, প্রতিক্রিয়া এবং পেনাল্টির সময় তাঁর প্রবণতা বিশ্লেষণ করা।
Egyptian players watching Kylian Mbappe’s penalty technique before the shootout pic.twitter.com/KCNvilsckn
— MICHEAL💫 (@YB_micheal) July 3, 2026
(Egypt) মিশরের সেই পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে কাজে দেয়। পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের চারটি শটই সফলভাবে জালে জড়ান মিশরীয় ফুটবলাররা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শটেই হ্যারি সাউটার বল উড়িয়ে দেন। পরে ১৮ বছর বয়সি লুকাস হেরিংটনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপরই ২৫ বছর বয়সি ডিফেন্ডার হোসাম আবদেলমাগুইদ নির্ধারক পেনাল্টিটি গোল করে মিশরের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
নাগাল পেলেন না ‘বাজপাখি’ মার্তিনেজ, মেসির সামনে বিশ্বমানের গোল কেপ ভের্দের
অবাক করার বিষয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৫ ম্যাচ খেলেও আবদেলমাগুইদের আগে কোনও গোল ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনিই হয়ে উঠলেন দেশের নায়ক। রায়ান ডানদিকে ঝাঁপ দিলেও আবদেলমাগুইদ শান্ত মাথায় বল জড়িয়ে দেন বাঁদিকের নিচের কোণে।
ডালাস কাউবয়েজের হোম গ্রাউন্ডের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ৭০ হাজার ২৪৪ জন দর্শক, যাঁদের বড় অংশই ছিলেন মিশরের সমর্থক। তাঁদের উল্লাসে যেন কেঁপে ওঠে স্টেডিয়াম।
ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে (Egypt) মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ বলেন, “আজকের অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। ছেলেদের এত খুশি দেখতে পাওয়ার মতো আনন্দ আর কিছু নেই। আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি আজ।”
মাত্র দু’সপ্তাহ আগে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছিল মিশর। আর এবার নক-আউটে প্রথম জয় তুলে নিয়ে তারা পৌঁছে গেল শেষ ষোলোয়। সেখানে তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে চলা সেই ম্যাচের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্ব।
ডার্বি দিয়ে শুরু, প্রকাশ্যে ডুরান্ড কাপের সূচি











