মোহনবাগান তাঁবুর বাইরে বুধবার সকাল থেকেই ছিল আবেগের ঢেউ। ক্যাওড়াতলায় সম্পন্ন হলো (Tutu Bose) টুটু বসুর শেষকৃত্য।শেষবারের মতো প্রিয় ‘টুটু দা’ স্বপনসাধন বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমালেন সবুজ-মেরুন সমর্থক থেকে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা । প্রাক্তন সভাপতি, সংগঠক ও আধুনিক মোহনবাগানের অন্যতম রূপকার টুটু বসুর প্রয়াণে যেন শেষ হল ময়দানের এক বর্ণময় যুগ।
লাইনটা লম্বা হচ্ছিল মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুর বাইরে। কারন ভেতরে শেষবারের জন্য এসেছেন স্বপনসাধন বসু। থুড়ি মোহনবাগানের প্রিয় টুটু বসু। বুধবার মাঝরাতে প্রয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেই বিষাদ বার্তার শঙ্কা ভিড় করেছিল সবুজ মেরুন জনতার মনে। মঘ্গলবার ভেন্টিলেশনে থাকাবস্থায় ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ব্যস সব শেষ। ৭৮ বছরে প্রয়ান প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতির। শুধু মোহনবাগান সভাপতির বন্ধনে টুটু বসুকে ব্যাখ্যা করা যায় না। শিল্পপতি,সাংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং আধুনিক মোহনবাগান ক্লাবের রূপকার। ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দেওয়ার মানসিকতা সম্পন্ন সভাপতি। অজাতশত্রু মানুষটি চিরকাল মোহনবাগান জনতার হৃদয় থেকে যাবেন। আরও ভালোভাবে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মনে থেকে যাবেন। যাকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ দেওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,“টুটু বসু মোহনবাগানের দ্বিতীয় তৃতীয় প্রজন্ম তৈরি করে গিয়েছেন। ” ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক এবং অন্যান্য বিধায়কদের নিয়ে মোহনবাগান ক্লাবে (Tutu Bose) টুটু বসুর মরদেহে মালা দিতে এসেছিলেন। পরে টুটু বসুর দুই পুত্র এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের সমবেদনা জানান।
প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বসু, শোকস্তব্ধ ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ: Tutu Bose: ‘গ্রেট স্যালুট টুটু বসু’, আবেগঘন বিদায়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন১৯৮৮ সালে ধীরেন দের বিরোধী গোষ্ঠী মেম্বার্স ফোরামের হয়ে তিনি (Tutu Bose) প্রথম মোহনবাগান মাঠে পা রাখেন। মেম্বার্স ফোরাম গঠন করে তখন ধীরেন দের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন গৌড় সাহা। মেম্বার্স ফোরামের আন্দোলনের জন্য ১৯৯০ সালে নির্বাচন হয়েছিল। জুলাই মাসে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের দিন সেই নির্বাচনের টুটু বসু মোহনবাগানে এসেছিলেন কর্ম সমিতির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে। অঞ্জন মিত্র হয়েছিলেন হিসাব রক্ষক। ওই নির্বাচনে ধীরেন দে গোষ্ঠী এবং মেম্বারস ফোরামের মিলি ঝুলি কমিটি হয়েছিল গজু বসু এবং সুশোভন বসুর জন্য। এরপর আস্তে আস্তে (Tutu Bose) তিনি কর্ম সমিতির সদস্য হিসেবে সহসচিব হয়েছিলেন। ১৯৯২ থেকে সচিব হিসেবে সাড়ে তিন বছর কাজ করেন। এরপর মোহনবাগানের সভাপতি হন। ২০১৭ সালে অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে বিরোধ বাধে। অঞ্জন মিত্র টুটু বাবুকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে টুটুদা তাই আবার অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে সচিব পদে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে অঞ্জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ১৪ মাসের জন্য টুটু দা যখন সচিব হন তখন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন গীতা নাথ গাঙ্গুলী। এরপর গীতানাথ গাঙ্গুলীর মৃত্যুর পর টুটু দা আবার সভাপতি হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ছিলেন মোহনবাগানের সভাপতি। ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন না করে টুটু বসু এবং অঞ্জন মিত্র সবুজ মেরুন প্রশাসনিক কূর্সিতে ছিলেন। এ অঞ্জন মিত্র মারা গিয়েছেন সাত বছর আগে ২০১৯ সালে। ৯০ দশকে যে নতুন মোহনবাগানের সূত্রপাত হয়েছিল তোর নেপথ্যা ছিল টুটু বসু অঞ্জন মিত্র। একটি যুগের অবসান হল। গতবছর মে মাসে নিজের বাড়িতে শেষ প্রেস কনফারেন্সটি করেছিলেন টুটু দা। মোহনবাগানের নির্বাচনে টুম্পাই কে জয়ী করার আহ্বান জানান সেদিন। সেই তিক্ততা এখন অতীত। (Tutu Bose) টুটু বসুর শেষ যাত্রায় সামিল ইস্টবেঙ্গল মহমেডান সিএবি। সিএবির যুগ্মসচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস মরদেহে মালা দান করেন। ইস্টবেঙ্গলের দেবব্রত সরকার মাল্যদান করেন। মহমেডানের তরফে মালা দেন ফুটবল সচিব দীপেন্দু বিশ্বাস এবং বেলাল আহমেদ।
“মোহনবাগান মানেই টুটু বসু”, সৌরভের কণ্ঠে স্মৃতির ভার: Tutu Bose: ‘গ্রেট স্যালুট টুটু বসু’, আবেগঘন বিদায়ে শেষকৃত্য সম্পন্নবুধবার রাতে টুটু বসুর (Tutu Bose) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে। সকালে বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য। এরপর ময়দানে ভবানীপুর ক্লাব ঘুরে টুটু বসুর মরদেহ আসে মোহনবাগান ক্লাবে। সভাপতি দেবাশিষ দত্ত মালা দেন। সবুজ মেরুন পতাকায় মুড়ে দেন মোহনবাগান রত্নকে। এরপর কর্ম সমিতির সদস্যরা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে শ্রদ্ধা জানান। প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিত চ্যাটার্জী,অমিত ভদ্র,রঞ্জন চৌধুরী,শিশির ঘোষ,সঞ্জয় সেনরা একে একে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সকাল থেকেই শ্রদ্ধা জানাতে সদস্য সমর্থকদের লম্বা লাইন দিন গড়ানোর সঙ্গে দীর্ঘ হয়েছে।
টুটু বসু শুধু খেলার মাঠের লোক ছিলেন না। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। তৃনমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বর্ষীয়ান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়,সিপিএম এর তরুন নেতা শতরূপ ঘোষ ময়ুখ বিশ্বাসও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এত বিভেদের মধ্যে বিদায় বেলায় টুটু বসু (Tutu Bose) মেলালেন সকলকে। সব রাস্তা মিশল মোহনবাগান ক্লাবে। সবার একটাই শব্দ গ্রেট স্যালুট টুটু বসু। ময়দান হারালো মহীরুহকে। বর্নময় চরিত্রকে।
টুটু বসুর প্রিয় ডিমের ডেভিলেই আজ শেষ শ্রদ্ধা, মোহনবাগান ক্যান্টিনে আবেগের ঢেউ: Tutu Bose: ‘গ্রেট স্যালুট টুটু বসু’, আবেগঘন বিদায়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন










