ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়, এটি আবেগেরও নাম। ব্রাজিলের হলুদ জার্সি যখন মাঠে নামে, তখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদস্পন্দন যেন একসঙ্গে বাড়তে থাকে। সেই আবেগকেই আরও উজ্জ্বল করে তুললেন (Vinicius Junior) ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুরন্ত ছন্দ ধরে রেখে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর ম্যাচ শেষে নিজের প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলত্তি।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে স্কটিশদের সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে দেন (Vinicius Junior) ভিনিসিয়াস। একটি ছিল হেডে, যা দেখে অবাক হয়েছেন খোদ আন্সেলত্তিও। কারণ হেড থেকে গোল করা ভিনিসিয়াসের ক্ষেত্রে খুবই বিরল ঘটনা। ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করেন মাতেউস কুনহা। দ্বিতীয়ার্ধে কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামেন নেইমার, যা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ব্রাজিল জার্সিতে তাঁর প্রথম উপস্থিতি।
ম্যাচ শেষে আন্সেলত্তি বলেন, “বিশ্বকাপে ভিনিসিয়াসকে নিয়ে আমার কোনও সন্দেহই ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা ওর কাছে গর্বের বিষয়। ও দারুণ খেলছে। এমনকি হেডেও গোল করেছে, যা ওর ক্ষেত্রে খুবই বিরল।”
এরপরই নিজের সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ শিষ্যকে বিশ্বের সেরাদের আসনে বসান ইতালীয় কিংবদন্তি কোচ। তাঁর কথায়, “ভিনিসিয়াস কী করতে পারে, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।”
২৫ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ যেন স্বপ্নের মঞ্চ। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্রয়ে গোল করেছিলেন তিনি। এরপর হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ জয়েও গোল পান। আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিন ম্যাচে চার গোলের মালিক হয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে উঠে এসেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং নরওয়ের আর্লিং হল্যান্ডের সমতায়। এই তিনজনই এখন লিওনেল মেসির থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে।
🌎🇧🇷 OFFICIAL: Vini Jr, back to back to back FIFA Man of the Match for Brazil. Three in a row.
— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) June 25, 2026
🥇🇲🇦 Brazil vs Morocco: 𝐅𝐈𝐅𝐀 𝐌𝐎𝐓𝐌
🥇🇭🇹 Brazil vs Haiti: 𝐅𝐈𝐅𝐀 𝐌𝐎𝐓𝐌
🥇🏴 Brazil vs Scotland: 𝐅𝐈𝐅𝐀 𝐌𝐎𝐓𝐌 pic.twitter.com/0XP6M0g78V
(Vinicius Junior) ভিনিসিয়াস আরও একটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে টানা তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই গোল করলেন তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনহো এবং ১৯৯৪ সালে রোমারিওও একই কীর্তি গড়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ওই তিনটি আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। ফলে সমর্থকদের মনে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কারণ তৈরি হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন (Vinicius Junior) ভিনিসিয়াস। ব্রাজিলিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম CazeTV-কে তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই বলি, সংখ্যার দিকে খুব একটা নজর দিই না। এত গোল করার অভ্যাসও আমার নেই। তবে কোচ আমাকে এমন একটি পজিশনে খেলাচ্ছেন, যেখানে আমি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। এখন গোল করছি, দলেরও সাহায্য করতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন, “আশা করি আমরা ফাইনাল পর্যন্ত এই ধারাটা ধরে রাখতে পারব। পুরো দল যেভাবে খেলছে, তাতে আমি খুবই খুশি। সবাই ভালো খেললে বল আক্রমণভাগে পৌঁছাবে, আর গোল করার সুযোগও তৈরি হবে।”
২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভিনিসিয়াস গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ২২টি গোল করেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাসই এখন জাতীয় দলের জার্সিতেও স্পষ্ট।
Neymar Jr, back after 981 days since last time wearing Seleção shirt. 🤩🇧🇷 pic.twitter.com/tMpCycVs0o
— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) June 24, 2026
অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর নেইমারের মাঠে ফেরা নিয়েও আশাবাদী আনসেলত্তি। তিনি বলেন, “ও মাঠে নামার যোগ্য ছিল। ফিটনেস ফিরে পেতে ও কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলেছে। বিশ্বকাপে এই দলকে সাহায্য করার মতো গুণ ওর আছে। অল্প সময় খেলেও সেটা প্রমাণ করেছে।”
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে নিয়ে আন্সেলত্তির মন্তব্য আরও আবেগঘন, “ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নেইমারের কোনও বাড়তি অনুপ্রেরণার দরকার হয় না। ৩৪ বছর বয়স হলেও ফুটবলের প্রতি ওর আবেগ এখনও একেবারে ছোট্ট শিশুর মতো।”
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠা ব্রাজিল আগামী সোমবার হিউস্টনে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
নকআউট পর্বের আগে দলের উন্নতি নিয়েও সন্তুষ্ট আন্সেলত্তি। তাঁর ভাষায়, “প্রথম ম্যাচের তুলনায় এখন আমরা অনেক কম ভুল করছি। খেলায় গতি এসেছে, আক্রমণভাগে আমরা অনেক বেশি কার্যকর। মরক্কো ম্যাচের পরের দুই ম্যাচে আমরা ভালো ছাপ ফেলেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপের শীর্ষে থাকা, সেটা আমরা অর্জন করেছি। এখন আরও উন্নতি করতে হবে।”
শেষে ব্রাজিল কোচ বলেন, “এখন আমরা সত্যিকারের একটি দল হিসেবে খেলছি। এটাই ছিল সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। আমরা এখনও নিখুঁত নই, অনেক কিছুই উন্নত করার আছে। তবে দল এখন অনেক বেশি সংগঠিত ও দৃঢ়। নকআউট পর্বে এই দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ছন্দ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের স্বপ্ন। (Vinicius Junior) ভিনিসিয়াসের দুরন্ত ফর্ম, নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং আনসেলত্তির অভিজ্ঞ নেতৃত্ব—এই ত্রয়ীর হাত ধরেই কি আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ফিরবে সাম্বার দেশে? সেই উত্তর লুকিয়ে আগামী নকআউট লড়াইগুলোতেই।
আরও পড়ুন :- বিশ্বকাপে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’, মাঠ পেরিয়ে বিশ্ব জুড়ে ভাইরাল হাল্যান্ডদের উদযাপন












1 thought on “বিশ্বকাপে ভিনিসিয়াস ঝড়, আন্সেলত্তির প্রশংসায় ভাসলেন ব্রাজিল তারকা”