কুশল চক্রবর্তী
মহা সমারোহে ঘোষিত দিন থেকে মাত্র ২ দিন আগেও থমকে আছে ভারতের ক্লাব লেভেলের সেরা প্রতিযোগিতা ISL। ঘোষিত হয়েছে একটা খেলার তালিকা, কিন্তু কেউ জানে না সেটার মাঠ আর দিন ঠিক থাকবে কি না। একাধিক ক্লাব প্রতিযোগিতার হাল হকিকত দেখে তাদের অনুশীলনই শুরু করেনি। মুম্বই সিটি এফসি, ওডিশা এফসির মতো ক্লাব মাঠ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। তায় আবার শেষমেষ গত বারের আইলিগ চ্যাম্পিয়ন বলে দাবি করা গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স বসে আছে তারাও ISL খেলবে বলে। মাননীয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর এতো আশ্বাসবাণীর পরও চার্চিলের সঙ্গে ঝামেলা মেটাবার মিটিং-এ নাকি কোরাম-ই হয়নি। কারণ ২২ জন সদস্যের নির্বাহী কমিটির মধ্যে ১২ জনই মিটিং-এ আসেনি। অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন AIFF-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এনএ হ্যারিস আর কোষাধ্যক্ষ কিপা অজয়। এমনকী এরা নাকি মিটিং-এর আগে জানাননি যে তাঁরা আসবেন না। এতেই বোঝা যাচ্ছে AIFF-এর সংগঠন কীভাবে চলেছে। জনশ্রুতি বলছে এই AIFF-এর গতি প্রকৃতি দেখে বলতে গেলে সব সদস্যরাই হতাশ।
এটা বললে বোধহয় ভুল হবে না একটা প্রতিযোগিতা সুস্থভাবে সম্পন্ন করতে গেলে সবার সহযোগিতা ও সংগঠকের সুপরিচালনার দরকার হয়। ২০২২ সালে যখন এই মুহূর্তের AIFF প্রেসিডেন্ট মাননীয় কল্যাণ চৌবে মহাশয় ৩৪-এর মধ্যে ৩৩টি ভোট পেয়ে ভারতের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বাইচুং ভুটিয়াকে পরাস্ত করে এই পদে বসেছিলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার মতো তিনিও দিয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবলকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি। আর আজ AFC-র বদান্যতায় তাঁকে ISL-কে ভারতীয় ফুটবলের সেরা প্রতিযোগিতা হিসাবে দেখাতে হচ্ছে।
মোবাইল না, টিভিতেও দেখাবে ISL, কোথায়? জানুন বিস্তারিত
এখন অবধি ঠিক ছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি মোহনবাগান আর কেরালা ব্লাস্টার্সের মধ্যে খেলা দিয়ে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে শুরুর হবে এই প্রতিযোগিতা। ISL-এর নিয়ম মেনে ১৩ ফেব্রুয়ারি হতে হবে এই প্রথম খেলার সাংবাদিক সন্মেলন। সেখানে উপস্থিত হতে গেলে কর্মরত সাংবাদিকদের দরকার ISL-এক পরিচয়পত্র, যা কি না ISL-এর বিগত প্রতিযোগিতাগুলোতে অনেক আগেই পৌঁছে যেত সংবাদিকদের কাছে। এখনও তার কোনও উদ্যোগই বলতে গেলে নেওয়া হয়নি। হবে কেমনভাবে? কারণ এই প্রতিযোগিতার অনেক কিছুই যে এখনও ধোঁয়াশায় মধ্যে রয়েছে। আসলে এবারের এই প্রতিযোগিতা থেকে FSDL সরে যাওয়ার পরেই বেরিয়ে পড়েছিল AIFF-এর প্রকৃত চিত্র। অর্থের যোগান থেকে আরম্ভ করে সঠিক নীতি নির্ধারণ সব কিছুতেই ছিল AIFF-এর কর্মকর্তাদের “অসাধারণতার” পরিচয়। একবার আদালত, একবার FIFA, একবার বিভিন্ন প্রতিযোগী দলের মতানৈক্য কোনও কিছুতেই মাননীয় প্রেসিডেন্টের “হাতযশ” ফুটে ওঠেনি। তার ফল যা হওয়ার তাই-ই হয়েছে।
আসলে ব্যাপারটা কী, ভারতের মাটিতে যে কোনও সংগঠন চালতে গেলে সবাইকে নিয়ে চলার মন্ত্র জানতে হয়। যেমন যে কসারাজু আর মানবেন্দ্র সিং, ২০২২ সালে যথাক্রমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাইচুং ভুটিয়ার নাম প্রস্তাব করেছিলেন আর তা সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের দু’জনকে হারিয়েই নির্বাহী কমিটিতে এসেছিল এনএ হ্যারিস আর কিপা অজয়। আর আজ তাঁরাই চার্চিল ব্রাদার্স নিয়ে মিটিং-এ এলেন না। অন্য আরও দু’জন সদস্য তো বলেই দিল সবাই মিলে যা ঠিক করবে তাতেই আমাদের সিলমোহর থাকবে। শুধু উনারা এলেন না নয়, এমন অবস্থা হলো যে, মিটিং-এর কোরামই হল না। তবেই বুঝে দেখুন এই ব্রহ্ম মুহূর্তে AIFF কী জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
এর পরেও কি মনে হয় এবারের ISL প্রতিযোগিতা আগের বছরগুলোর মান স্পর্শ করতে পারবে? এখনও কি করবে চার্চিল ব্রাদার্স কেউ জানে না।











