‘মৃত্যুপুরী’ আনন্দপুরের মোমো কারখানার সামনে কান্না, হাহাকার। স্বজনদের খোঁজে অস্থির চিত্তে অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা। শেষ খবর, ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যাও অনেক। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের ১৩ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ৩২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মন্ত্রীকে দেখে বিজেপি কর্মীদের ‘গো ব্যাক’ শ্লোগান দিতে দেখা যায়। শুরু হয় রাজনীতির চর্চা। এর মধ্যেই খবর, কারখানায় কর্মরত ১৩ জন নিখোঁজের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানতে পারেন পরিবার-পরিজনরা। তারপর থেকেই বেড়েছে উদ্বেগ। অনেকেই দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে রয়েছেন। ‘জতুগৃহে’র সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের একটা খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন তমলুকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা। নন্দকুমারের গড়গোদার সন্দীপ মাইতিরও খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। ওইসব পরিবারে কাছে এখন কেবলই আতঙ্ক। যত সময় এগোচ্ছে, কান্নার রোল উঠছে বাড়িতে।
সোমবার, দিনভর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ইউনিস ইসমাইল জানিয়েছেন, পরিবারের লোকজনদের অনেকেই সোমবারই দুর্ঘটনাস্থলে চলে গিয়েছেন। পুলিশ অফিসার, মহকুমা শাসক থেকে অন্যান্য আধিকারিকরা ওইসব পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আনন্দপুরেও জেলা প্রশাসনের তিন আধিকারিক পৌঁছে গিয়েছেন।










