দেবী দশভুজা নন। দেবী দ্বিভুজা। অসুর বধের রুদ্র মূর্তিও নয়। নদিয়ার শান্তিপুরের উমার নয়া রূপ। শান্ত ও স্নেহময়ী রূপে শিবকে সঙ্গে নিয়ে পূজিতা হচ্ছেন দেবী দুর্গা। নদীয়া শান্তিপুরের বাসিন্দা অতনু বিশ্বাসের বাড়িতে এই বছর আয়োজন করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের এই দুর্গোৎসব। শান্তিপুর তথা গোটা নদীয়া জেলায় যা কার্যত নজিরবিহীন (Durga Puja 2026)।
Durga Puja 2026: মায়ের এই রূপ কেন?
উমার উচ্চতা প্রায় ৮ ফুট। এই অপরূপ দেবী প্রতিমা কোনও কুমোরটুলি থেকে আসেনি, নিজের হাতেই পরম যত্নে এই মূর্তি গড়ে তুলেছেন শান্তিপুরের যুবক অতনু বিশ্বাস। শারদোৎসবে চেনা রূপের বাইরে গিয়ে শান্তিপুরে এক অনন্য ও ঐতিহ্যবাহী ভাবনার সাক্ষী থাকলেন দর্শনার্থীরা। যেখানে দশহাতে অস্ত্র ধরে অসুর দমন নয়, শান্ত ও স্নেহময়ী রূপে শিবের সঙ্গে বসে রয়েছেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীও রয়েছেন। সাধারণত আমরা যে মহিষাসুরমর্দিনী রূপ দেখে অভ্যস্ত, তার বদলে এখানে মা দুর্গা ধরা দিয়েছেন শিবদুর্গা মূর্তিতে। দেবীর দশ হাত বা কোনও হাতেই অস্ত্র নেই। তিনি দ্বিভুজা (Durga Puja 2026)।
কী বলছেন শিল্পী?
কলকাতার একটি বনেদি বাড়ির পুজো দেখে এমন মূর্তি গড়ার করার ভেবেছিলেন শিল্পী অতনু বিশ্বাস। সেখানেই তিনি দেখেছিলেন, সপরিবারে মা তাঁর বাপের বাড়িতে এসেছেন। তখন তিনিও তাঁর বাড়িতে এমন মূর্তি গড়ার কথা ভাবলেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র এবছরই শিবদুর্গা পুজো হচ্ছে তাঁদের বাড়িতে। এই পুজো নদীয়া জেলা সম্ভবত প্রথম পুজো।
শরতের আকাশ মানেই মেঘের ওড়ার সঙ্গে ঢাকের আওয়াজ আর পুজো পুজো গন্ধ। আর এই আবহেই বঙ্গবাসীর মনে শিহরণ জাগায় এক পুরোনো দিনের নস্ট্যালজিয়া। শহর বা শহর ছাড়িয়ে বিভিন্ন বনেদি পুজোতে দেবী তাঁর সন্তানদের সঙ্গেই পূজিতা হন। কিন্তু এখানে তাতেও বদল। শান্তিপুরের রায়বাড়ির পুজোয় মা দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন।











