নদিয়ার নবদ্বীপে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হরিদাস দেবনাথকে অপহরণের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাহেব হালদার এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজেশ দাসকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার ঝিটকিপোতা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃত দু’জনকে নবদ্বীপ আদালতে পেশ করে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের পর গোটা ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। (Nabadwip Kidnapping Case)
গত ৮ জুন নবদ্বীপের চর ব্রহ্মনগর এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে থেকে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হরিদাস দেবনাথকে একটি চারচাকা গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাহেব গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। (Nabadwip Kidnapping Case)
ঘটনার পরদিনই এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজ নেন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী। তিনি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই নবদ্বীপ থানার পুলিশ একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে সাহেব গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরতে শুরু করে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল মূল চক্রী সাহেব হালদার। (Nabadwip Kidnapping Case)
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাহেব হালদার ও রাজেশ দাস ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহেব ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তাদের নাম জড়িয়েছে। এই গ্রেপ্তারকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সাহেব গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ চর ব্রহ্মনগরের বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। (Nabadwip Kidnapping Case)
আরও পড়ুন :- ‘তৃণমূল ভাঙার চেষ্টা’, বিধায়ক প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক কুনাল ঘোষ









