‘জয় শ্রীরাম’ বলায় স্কুলের সহপাঠীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি সরকারি স্কুলে (Jai Shri Ram)। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে ওই ছাত্র। ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। অভিযোগ, সহপাঠীদের মারের চোটে কানে আঘাত লেগেছে। তারপর থেকেই কানে শুনতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও ওই আহত ছাত্রের অভিযোগ, সে নাকি ‘জয় শ্রীরাম’বলেনি। তারই মতন দেখতে এক ছাত্রের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে মারধর করা হয়েছে তাকে।
সূত্রের খবর, বারুইপুর মদেরহাট পপুলার অ্যাকাডেমী স্কুলের ছাত্র দেবজিৎ হালদার। অভিযোগ, গরমের ছুটির পরই চলতি মাসের গত ৪ তারিখে স্কুলে যায় দেবজিৎ। অভিযোগ, তার মতো দেখতে কেউ ‘জয় শ্রীরাম’ বলেছিল। ক্লাস চলাকালীন দেবজিৎকে বাথরুমে ডেকে নিয়ে যায় প্রায় ১০-১২ জন। এমনকি ভবিষ্যতে আর যাতে সে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলে তার জন্য তাকে সকলের সামনে ক্ষমাও চাওয়ানো হয়। আর তারপরই বেধড়ক মারধর করা হয় (Jai Shri Ram)।
মারধরের সময়ে একটি ভিডিয়ো করা হয়। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে স্কুলের পোশাক পরা বেশ কিছু ছাত্র দেবজিতকে বাথরুমে নিয়ে এসে প্রথমে ক্ষমা চাওয়ায়। তারপরই তার কানের পাশে সপাট চড় মারে এক ছাত্র। বেশকিছু অশ্লীল ভাষাও বলতে শোনা যায় ওই ছাত্রদের।
দেবজিতের অভিযোগ, ঘটনার পরই সে অভিযোগ জানাতে প্রধান শিক্ষকের ঘরে যায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার অভিযোগ নেননি। এমনটাই দাবি দেবজিতের। ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে রয়েছে দেবজিৎ। ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কেন তাঁদের ছেলের সঙ্গে এমন ঘটনার পরও কোনও ব্যবস্থা নিল না স্কুল কর্তৃপক্ষ? সেটাও জানাতে হবে তাঁদের।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, “আজ ছাত্রদের অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইন আইনের পথে চলবে।” প্রধান শিক্ষকের এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছে দেবজিতের পরিবার। বারুইপুর থানার অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা।








