ভোটের একমাসের মাথায় কার্যত ভেঙে চুরে শেষ তৃণমূল। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসলেন উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁকে সমর্থন করেছেন ৫৮ জন। আরও ২ জন যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বিদ্রোহের আগুনই শুধু নয়, আগুন ছড়িয়েছে ব্লক স্তরেও। এ দিন ঋতব্রত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খুলে দেওয়া হয়। ঋতব্রত বলেন, আমরা দলবদ্ধভাবে লড়াই করেছি। আমাদের টিএমসি-র ৫৮ সদস্যের দল রয়েছে। আমরাই প্রধান বিরোধী দল। আরও দু’জন আমাদের সঙ্গে আছেন, কিন্তু তাঁরা রাজ্যের বাইরে।
পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদন করলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দূর-দূরান্ত সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করলেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রীকে উদ্দেশ করে ঋতব্রত বলেন, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ বিরোধীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। আমরা কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিরোধী বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলাম। আমরা দায়িত্বশীল, সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। তাদের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসাও করব।’’
তিনি বলেন, ‘‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি ‘বস’ নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেব আমরা।’’
ঋতব্রত জানান, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহাকে। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়কের বৈঠক হয় বিধানসভায়। ওই বৈঠকে সামিল ছিলেন দলের বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাও। এরপর সকলের সই সম্বলিত একটি চিঠি জমা দেওয়া হয় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে, এতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব ছিল।












1 thought on “বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, মমতাকে পরামর্শদাতা হওয়ার অনুরোধ”