রাজ্যে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি এবং শাখা সংগঠনের কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। (TMC) দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মদক্ষতা, সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের মাঝেই সামনে এসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর অন্দরের অসন্তোষের চিত্র, যা নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের অনাস্থার চিত্রকে আরও স্পষ্ট করছে।
(TMC) তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে, দলের সমস্ত সাংগঠনিক স্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া শুরু হবে। বুথ, অঞ্চল, ব্লক, শহর, জেলা এবং রাজ্যস্তরের সংগঠনের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠন, যেমন যুব, ছাত্র, মহিলা, শ্রমিক ও অন্যান্য ফ্রন্টাল সংগঠনের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই মূল দল এবং সমস্ত শাখা সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করে ঘোষণা করা হবে। দলের বক্তব্য, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল সংগঠনে বড় ধরনের রদবদলের পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে কর্মীদের অসন্তোষ, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আবহে প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ছবি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুধু মূল তৃণমূল নয়, দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মধ্যেও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। সম্প্রতি TMCP-র একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন সামনে এসেছে, যেখানে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে।
সেই চ্যাটে দেখা যায়, (TMC) রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ডাকে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি বলেই দাবি উঠেছে।
গ্রুপের কয়েকজন কর্মী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা রাস্তায় নামবেন কার ভরসায়? অভিযোগ, সাংগঠনিক নেতাদের অনেককেই মাঠে দেখা যাচ্ছে না। জেলার বহু পার্টি অফিস কার্যত বন্ধ। ফলে কর্মীদের একাংশের দাবি, নেতৃত্ব যখন পাশে নেই, তখন আন্দোলন বা কর্মসূচিতে সক্রিয় হওয়ার মতো পরিবেশও তৈরি হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতেই তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য গ্রুপে লেখেন, “তাহলে কি আমি ব্যর্থ সভাপতি?” এই মন্তব্য ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকের মতে, এই বার্তাই প্রমাণ করছে যে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যে শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ উইপোকায় খাওয়া নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তকারীরা ওই ইউনিয়ন রুম থেকে অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনা ছাত্র রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে (TMC) তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ভেঙে নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার সিদ্ধান্ত দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ শুধু নতুন মুখ আনা নয়, কর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করাও এখন দলের সামনে অন্যতম বড় কাজ।
গ্রেফতার জয়প্রকাশ মজুমদার! শ্লীলতাহানির অভিযোগে শ্রীঘরে তৃণমূল নেতা








