বাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবী। বাঘের সঙ্গে সঙ্গীদের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে প্রাণে বাঁচলেন ওই মৎস্যজীবী। সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকাই বাঘের হামলা (Sundarban Tiger Attack)। তারপরই প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় বাঘে মানুষে লড়াই। সঙ্গীকে প্রাণে বাঁচাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন অন্যান্যরা। পাল্টা মারে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বাঘ। সঙ্গীদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হন ওই মৎস্যজীবী। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের বড়িতলা জঙ্গলে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জখম যুবকের নাম নিখিল মণ্ডল। বাড়ি সুন্দরবনের হেমনগর কোস্টাল থানা এলাকার শামসেরনগরে। নিখিল সহ মোট ছয় জন কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের জঙ্গলে। শনিবার বিকেলে বরিতলা জঙ্গলে তাদের নৌকার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘ। নিখিল উপর আক্রমণ করে। সঙ্গীরা বাঁশ দিয়ে বাঘকে মেরে তাড়িয়ে দেয় । কিন্তু গুরুতর আহত হন নিখিল। সঙ্গীরা তড়িঘড়ি নিখিলকে নিয়ে প্রথমে যোগেশগঞ্জ হাসপাতাল এবং পরে গভীর রাতে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দ মণ্ডল জানান, নিখিল-সহ মোট ছ’জন দু’টি নৌকা নিয়ে তিন দিন আগে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন। শনিবার ঠিক সন্ধ্যার আগে বড়িতলা জঙ্গলের একটি খাড়ির ভিতর থেকে বেরোনোর সময় একটি বাঘ তার দু’টি শাবক নিয়ে খাড়ির ধারে উপস্থিত হয়। বাঘটি আচমকাই নৌকার উপর দাঁড়িয়ে থাকা নিখিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গোবিন্দ তৎক্ষণাৎ বাঁশ নিয়ে বাঘকে সজোরে আঘাত করেন। তখন ওই বাঘটি (Sundarban Tiger Attack) নিখিলকে ছেড়ে দিলে, তিনি নৌকা থেকে জলে পড়ে যান। কিন্তু ওই বাঘটি নৌকা থেকে ডাঙ্গায় উঠে তখনও নিখিলকে ধরার চেষ্টা করে। এর পর নিখিলের সঙ্গীরা চিৎকার, চেঁচামেচি করে লাঠি নিয়ে বাঘের দিকে তেড়ে গেলে, বাঘ তার দু’টি বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে যায়।
তিনি আরও বলেন, “দু’টি ছোট ছোট বাঘের বাচ্চা নদীর পাড় দিয়ে ঘুরছিল। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, কিন্তু আলো কমে আসায় ভাল বুঝতে পারছিলাম না বাচ্চা দুটো বাঘের না অন্য কিছুর। ঠিক তখনই ওই বাঘটি লাফিয়ে পড়ে নিখিলের উপর।”










