বুধবার দুপুরে বিপর্যয় নেমে এল তারাতলায়। হুরমুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গোডাউনের লোহার ছাদ। ভিতরে আটকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। ঘটনা নজরে আসতে স্থানীয়েরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকলের কর্মী ও সেনা (Taratala Incident)। চাপা পড়ে মৃত ৩।
উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক ক্রেন। সেই ক্রেন দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের বাইরে বার করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকার্যে নামানো হয়েছে সেনা। গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার শেড কাটার কাজ চলছে। শেড কেটে ভিতর থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। মাইকিং করে এলাকা থেকে ভিড় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পৌঁছেছেন। রয়েছেন, কলকাতার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংও। কলকাতা পুলিশ কমিশনারও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুমও। উদ্ধারকাজে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী (Taratala Incident)।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বেশকিছু সেনার অ্যাম্বুলেন্স। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, দুর্ঘটনার প্রকৃতি বিচার করে আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে অনেকেরই আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশকিছুদিন ধরে তারাতলার ওই গোডাউনটিতে কাজ চলছিল। ভিতরে ছিলেন অনেক শ্রমিক। কাজ চলাকালীন সেই সময় আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লোহার শেড। ভিতরে আটকে পড়েন শ্রমিকরা। স্থানীয়রাই প্রথমে দেখে খবর দেয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে এক চিকিৎসককে আনা হয়েছে। উদ্ধারকাজে একটুও সময় নষ্ট করতে নারাজ প্রশাসন। মাটি কেটে অস্থায়ী রাস্তা করে একে একে উদ্ধার করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল? কেন ভেঙে পড়ল ওই নির্মীয়মাণ গুদাম? কোনও নিরাপত্তা ছাড়াই শ্রমিকেরা কীভাবে এখানে কাজ করছিলেন।









