প্রায় ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে জনগণনা বা সেন্সাসের কাজ। এবার প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই জনগণনা হবে । (West Bengal Census) আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হবে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া, যা চলবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে জনগণনায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গে শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর দেশে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে প্রায় দেড় দশক পর ফের (West Bengal Census) রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হতে চলেছে। প্রশাসনের মতে, এই দীর্ঘ বিরতির কারণে জনসংখ্যা,পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিবর্তনের তথ্য সংগ্রহ এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনার প্রথম ধাপে ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত থাকবে ‘Self Enumeration’-এর সুযোগ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ নিজেরাই সরকারি পোর্টালে অনলাইনে পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এরপর ১৬ অগস্ট থেকে শুরু হবে ‘House Listing’ বা বাড়ির তথ্য সংগ্রহের কাজ, যা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল মাধ্যমে।
(West Bengal Census) এবার জনগণনার কাজে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ‘HLO’ মোবাইল অ্যাপ । এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে। প্রশাসনের দাবি, তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। জনগণনায় বাড়ির ধরন, ছাদ ও মেঝের অবস্থা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচাগার, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার, রান্নার জ্বালানি থেকে শুরু করে গাড়ি-বাইক সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, ২০২৮-এর মধ্যে দেশের সমস্ত কর্মরত শিক্ষকের জন্য TET বাধ্যতামূলক
এর পাশাপাশি জনগণনার কাজে ব্যবহৃত হবে ‘CMMS Portal’ এবং স্যাটেলাইট সহায়ক ‘House Listing Block Creator Portal’। প্রশাসনের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে। দেশের মধ্যে এই প্রথম এত বড় আকারে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার এনুমারেটর এবং বিপুল সংখ্যক সুপারভাইজারের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের এনুমারেটর হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে প্রশাসনিক স্তরে।
নবান্নে ইতিমধ্যেই প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসারদের প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে। সব জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যসচিব সহ শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। জনগণনার পুরো প্রক্রিয়া যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
(West Bengal Census) সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু করা হচ্ছে হেল্পলাইন পরিষেবাও। দেশজুড়ে ব্যবহারের জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বর ১৮৫৫ চালু করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের জন্য আলাদা ল্যান্ডলাইন নম্বর ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩ চালু করা হচ্ছে। এছাড়াও জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য ও নির্দেশিকা পাওয়া যাবে সরকারি ওয়েবসাইটে।
জনগণনা (West Bengal Census) নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জনগণনা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এর সঙ্গে রাজনীতি বা জাতপাতের কোনও সম্পর্ক নেই।” তিনি দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের গাফিলতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ দীর্ঘদিন পিছিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আরও পড়ুন: বড় পরিবর্তন করল মেট্রো রেল, ব্লু লাইনে বড় বদল, আরও মসৃণ হবে কলকাতা মেট্রো পরিষেবা
একইসঙ্গে রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং অনুপ্রবেশের কারণে বহু এলাকায় জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণেই সঠিক তথ্যভিত্তিক জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদিও সাধারণ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু বলেন, “এদেশের বৈধ নাগরিকদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সবাইকে সহযোগিতা করার আবেদন জানাচ্ছি।”
প্রশাসনের দাবি, ডিজিটাল জনগণনার ফলে তথ্য সংগ্রহ যেমন দ্রুত হবে, তেমনই সরকারি প্রকল্প পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নেও এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে চলা এই জনগণনাকে তাই রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
‘HLO’ মোবাইল অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cdac.hlo&pcampaignid=web_share
ওয়েবসাইট: https://westbengal.census.gov.in/
আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলেই থাকছেন অস্কার? কী হলো ইমামি-ইস্টবেঙ্গল বৈঠকে?

